রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনা রোগীর সংস্পর্শে আসা চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারী মিলিয়ে ৩৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেডিসিন ইউনিট-৫ (ওয়ার্ড নং-৪২) লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে পৌণে ৮টায় রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে দুপুরে রাজশাহী অঞ্চলের করোনা চিকিৎসক টিমের প্রধান অধ্যাপক ডা. আজিজুল হক আজাদ রামেক হাসপাতালকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ উল্লেখ করে ২২ এপ্রিল থেকে নিয়মিত ব্রিফিং বন্ধ ঘোষণা সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের কথা জানান। গত ৩১ মার্চ থেকে রাজশাহীর করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্রের ভূমিকায় ছিলেন তিনি।
অধ্যাপক ডা. আজিজুল হক আজাদ বলেন, ‘ভুল তথ্য দিয়ে রামেক হাসপাতালে চারদিন ধরে চিকিৎসাধীন ৮০ বছর বয়সী একজন রোগী করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। ফলে হাসপাতাল এলাকা এখন ঝুঁকিপূর্ণ। আগামীকাল বুধবার থেকে আর নিয়মিত ব্রিফিং হবে না। তবে সেটা অনলাইনে করা সম্ভব কিনা তা নিয়ে আলোচনা চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত ওই রোগী রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাসিন্দা। জ্বর এবং প্রস্রাবের সমস্যার কথা বলে গত ১৭ এপ্রিল রামেক হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। ওই বৃদ্ধকে বুঝতে আমাদের কিছুটা বিলম্ব হয়ে যায়। কারণ তিনি বাইরে থেকে আসা কারও সংস্পর্শে যাননি বলে জানিয়েছিলেন। ফলে তাকে সাধারণ ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। ইসিজি রিপোর্ট সন্দেহজনক হওয়ায় সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষায় তার করোনা পজিটিভ আসার পর তাকে করোনা ওয়ার্ডে শিফট করা হয়েছে।’
ডা. আজাদ বলেন, ‘আক্রান্ত বৃদ্ধের স্ত্রী ও ছেলেকে আইসোলেশনে (রাজশাহী সংক্রমক ব্যাধি হাসপাতাল) রাখা হয়েছে। তাদেরও নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হবে। এছাড়া রাজশাহীতে আক্রান্ত আরও সাতজন রোগীকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাদের শারীরিক অবস্থা বেশ ভাল। চিকিৎসকরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। শনাক্তের ১২ থেকে ১৪ দিন পর দ্বিতীয় দফায় তাদের নমুনা পরীক্ষা করা হবে।’
মঙ্গলবার শেষ ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন রামেক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ও ফজলে হোসেন বাদশা ও রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস প্রমূখ। এর আগে সকালে ফজলে হোসেন বাদশার সভাপতিত্বে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে করোনা চিকিৎসায় রামেক হাসপাতালের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত হয়।
এদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী জানান, মেডিসিন ইউনিট-৫ (ওয়ার্ড-৪২) লকডাউন ঘোষণার পাশাপাশি ২১ চিকিৎসক, ১২ নার্স ও কর্মচারী ৩৯ জনকে কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হয়েছে। জরুরি বিভাগসহ যেসব চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারী ওই রোগীর সংস্পর্শে এসেছেন বুধ ও বৃহস্পতিবারের মধ্যে তাদের সকলের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার ফলাফল প্রাপ্তির পরই চূড়ান্ত করণীয় ঠিক করা হবে।
ইত্তেফাক/এসি