শীত নামার সাথে সাথে কালিহাতীর বিভিন্ন হাটবাজারে বসতে শুরু করেছে শীতের পোশাকের অস্থায়ী দোকান। এসব দোকানে অল্প দামে মিলছে বিভিন্ন বয়সীদের শীতের বাহারি পোশাক। ফুলপ্যান্ট, শার্ট, সোয়েটার, জ্যাকেট, মাফলার থেকে শুরু করে কোট, টাই, টুপি— কী নেই এসব দোকানে? সাধারণত বিকেল থেকে শুরু করে সন্ধ্যারাত্রি পর্যন্ত চলে এসব দোকানের বেচাকেনা। আবার কোনো কোনো জায়গায় সকাল থেকে শুরু করে একটানা রাত্রি পর্যন্তও খোলা থাকে গরিবের ‘কার্টুন প্লাজা’। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাগজের কার্টনের উপর জামাকাপড় সাজিয়ে রাখা হয় বলে স্থানীয়ভাবে এরকম নাম দেয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার কালিহাতী বাসস্ট্যান্ড, এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, বল্লাবাজার, ফুলতলা বাজার, নারান্দিয়া বাজার, সয়া হাট, বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেলস্টেশন (ইব্রাহীমাবাদ) এলাকাসহ ছোটবড় ৫০টিরও বেশি জনবহুল জায়গায় বসছে পুরাতন পোশাকের বাজার। মূলত শ্রমিক শ্রেণির লোকজনই এসব পোশাকের মূল ক্রেতা। তবে মধ্যবিত্ত এমনকি অভিজাত পরিবারের সদস্যরাও এখান থেকে পোশাক সংগ্রহ করে বলে জানালেন সল্লা বাজারের পুরাতন কাপড় বিক্রেতা মোঃ কদ্দুস মিয়া। গড়ে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ হাজার টাকার কাপড় বিক্রি হয় বলেও জানালেন তিনি।
এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের রিকশাচালক আদর আলী জানালেন, কম দামের পোশাক কিনে শীতের হাত থেকে বাঁচার জন্যই তাদের মত দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা বেছে নিয়েছেন এ জাতীয় দোকান। শুধু কদ্দুস মিয়া, আদর আলী নয়, এরকম অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং শ্রমিকের কাছে জীবন-জীবিকার তাগিদেই দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে গরিবের ‘কার্টুন প্লাজা’।