‘মিরাকলের’ আশায় লড়বে জিম্বাবুয়ে

স্পোর্টস রিপোর্টার

ব্রেন্ডন টেইলরের সেঞ্চুরি, পিটার মুরের হাফ সেঞ্চুরির পরও জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংসটা থেমে গেছে ৩০৪ রানে। জিম্বাবুয়ের মিডিয়া ম্যানেজার গতকাল বিকালে জানিয়েছেন, হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়া টেন্ডাই চাতারা ব্যাট করবেন না। তাই নবম উইকেটের পতনেই মূলত সফরকারীদের প্রথম ইনিংস শেষ।

মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ২১৮ রানে পিছিয়ে জিম্বাবুয়ে। ফলো অনে পড়লেও আজ সকালে তাদের ভাগ্য কি হবে সেটি নির্ধারণ হবে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের উপর। বাংলাদেশ ব্যাটিং না আবার বোলিংয়ে নামে তার উপরই সবকিছু নির্ভর করছে।

ব্যাটিং, বোলিং যাই হোক এটুকু নিশ্চিত ম্যাচে এখন পুরোই কোণঠাসা অবস্থায় আছে জিম্বাবুয়ে। পরাজয়ের রেখা উঁকি দিচ্ছে তাদের শিবিরে। গতকাল দিনের খেলা শেষে ব্রেন্ডন টেইলর অবশ্য বলেছেন, ম্যাচ নাকি এখনও শেষ হয়ে যায়নি জিম্বাবুয়ের জন্য। তবে এটাও বলেছেন, ম্যাচ বাঁচাতে মিরাকলের তথা অভাবনীয় কিছু করতে হবে। আর সেজন্য দল হিসেবে বুক চিতিয়ে লড়বে জিম্বাবুয়ে।

গতকাল দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে টেইলর বলেছেন, ‘এখনও শেষ হয়ে যায়নি। এটা অবশ্যই নয়। কিন্তু এটা পর্বতপ্রমাণ চ্যালেঞ্জ আমাদের জন্য, এমনকি ড্র করাও। আমরা ১০৫ ওভার ব্যাটিং করেছি। বাস্তবিকভাবে, ম্যাচটা ড্র করাও আমাদের জন্য মিরাকল হবে। কিন্তু আমাদের বিশ্বাস করতে হবে আমাদের ব্যাটসম্যান আছে এবং মানসিক শক্তি আছে এটা করার।’

ম্যাচে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছে জিম্বাবুয়ে, এটা স্বীকার করেছেন সেঞ্চুরিয়ান টেইলর। তিনি বলেছেন, ‘আমরা এখনও পিছিয়ে। তারা ২২০ (আসলে ২১৮) রান এগিয়ে। আমি যদি বাংলাদেশ হতাম তা হলে আমি আবারও বোলিং করতাম কারণ যদি আমরা ৩০০ও করি তা হলে বাংলাদেশ ৮০ রান চেজ করতে হবে। তারা হয়তো দুই সেশন ব্যাটিং করতে চাইবে। এবং নিশ্চিতভাবেই পিছিয়ে। যখন একটা দল ৫০০ রান করে তারা কদাচিত হারে। নিজেদের সুযোগ তৈরির জন্য আমাদের দরকার ছিল অন্তত ৪০০ থেকে ৪৫০ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের মেলে ধরতে হবে।’

টেইলর আরও বলেছেন, উইকেট ধীরে ধীরে আরও কঠিন হবে। ৩২ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার বলেছেন, ‘উইকেট কাল (আজ) আরও কঠিন হবে। যদি আমরা পঞ্চম দিনে যাই, উইকেট ভাঙতে শুরু করবে এবং উইকেটে ব্যাটসম্যানদের জীবন খুব কঠিন হয়ে পড়বে। তাইজুল প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছে। দ্বিতীয় ইনিংসে তাকে মোকাবিলা করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।’

গতকাল ১৩১ রানে পাঁচ উইকেট পড়ার পর দলের হয়ে প্রতিরোধ গড়েছেন টেইলর-পিটার মুর। ষষ্ঠ উইকেটে তারা ১৩৯ রানের জুটি গড়েন। তখনই ফলো অন এড়ানোর আশা জেগেছিল জিম্বাবুয়ের। টেইলর ক্যারিয়ারের পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন। যার চারটিই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। ১১০ রান করে মিরাজের বলে তাইজুলের দুর্দান্ত ক্যাচে ফিরেন তিনি। তবে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেয়া পিটার মুর মিস করেছেন সেঞ্চুরি। রানের চাকা সচল করা মুর ৮৩ রান করে ফিরেন আরিফুলের বলে। ম্যাচ বাঁচাতে দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাট হাতে তাদের শক্ত প্রতিরোধ চাইবে জিম্বাবুয়ে।