চিতলমারীর অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট

পানির অপর নাম জীবন হলেও বিশুদ্ধ খাবার পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে চিতলমারী উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। ফলে এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটে রয়েছে। শিক্ষার্থীরা পানি পিপাসায় ঠিকমতো ক্লাস করতে পারছে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশলী সূত্র জানায়, চিতলমারীতে  ১৭৭টি গভীর ও  ১ হাজার ৮৮২টি অগভীর নলকূপ রয়েছে। এর মধ্যে ৮০ ভাগ নলকূপের পানিতে রয়েছে অতিমাত্রায় আর্সেনিক। যার ফলে এসব পানি পান করার আনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া ১১০টি রেইন ওয়াটার প্লান্ট এবং ৬ শতাধিক পুকুর ও টিউবওয়েলসহ অন্যান্য ফিল্টার স্থাপন করা হলেও এগুলো প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য।  

আড়ুয়াবর্নী গ্রামের বাসিন্দা মো. লিয়াকত আলী খান, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মো. কেরামত আলী মোল্লাসহ অনেকে জানান, বিষয়টি নিয়ে এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মকর্তারা মুখে বিভিন্ন আশ্বাসের বাণী শোনালেও দীর্ঘদিনেও কোনো কাজে আসেনি। সুপেয় পানির জন্য কার্যকরী কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

চিতলমারী হাসিনা বেগম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শৈলেন্দ্র নাথ বাড়ৈ জানান, দুপুরের টিফিন খাওয়ার পানি পর্যন্ত মিলছে না স্কুলে। এ অবস্থায় গরিব পরিবারের ছাত্রী যাদের বাজারের মিনারেল ওয়াটার কেনার সামর্থ্য নেই তাদের খুব দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চিতলমারী সরকারি এসএম মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমেন্দ্র নাথ মল্লিক জানান, তার বিদ্যালয়ে প্রায় ৮৬০ জন শিক্ষার্থী। তাদের জন্য সুপেয় কোনো পানির ব্যবস্থা না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা অস্বাস্থ্যকর পানি পান করছে।