দেশে করোনা ভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১০ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হিসেবে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরো ৩৯০ জন। ফলে করোনা ভাইরাসে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৭৭২ জন। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন আরো পাঁচ জন, ফলে সব মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৯২ জন। গতকাল বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় ওষুধাগারের (সিএমএসডি) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. শহীদুল্লাহ।
ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, করোনা ভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৯৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩২ হাজার ৬৭৪টি। নতুন করে যে ১০ জন মারা গেছেন, তাদের মধ্যে পুরুষ সাত জন এবং নারী তিন জন। সাত জন ঢাকায় এবং তিন জন ঢাকার বাইরে। ঢাকার বাইরে ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে এক জন করে মারা গেছেন। বয়স হিসেবে ষাটোর্ধ্ব তিন জন, পঞ্চাশোর্ধ্ব দুই জন, চল্লিশোর্ধ্ব তিন জন এবং ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সি দুই জন মারা গেছেন। বুলেটিনে বলা হয়, হয়েছে। বুধবার সকালে নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি। খবর পেয়ে মৃত ব্যক্তির করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এছাড়া ঐ কৃষকের পরিবারের সদস্যদের কোয়ারন্টাইনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান, ময়মনসিংহ নগরীর এসকে হাসপাতালের আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় বুধবার দুপুরে করোনার উপসর্গ নিয়ে দুই জন মারা গেছে। সিভিল সার্জন ডা. এবি এম মসিউল আলম জানান, ফুলবাড়িয়া উপজেলার আরাফাত হোসেন (১৭) নামে একজন গত দুদিন আগে নিউমোনিয়া নিয়ে এসকে হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং গাজীপুর জেলার মাওনা থেকে রাজিব (৩০) নামে অপরজনকে বুধবার সকালে করোনার নানা উপসর্গ নিয়ে আইসোলেশনে ভর্তি করা হয়। বুধবার দুপুরে মারা যায় এ দুজন। পরে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে
খুলনা অফিস জানায়, খুলনায় করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মিজানুর রহমান (৫২) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি ফুলতলা উপজেলার বাসিন্দা।
চৌমুহনী (নোয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, চৌমুহনী শহরের কালীতলা রোডের এক দোকান কর্মচারী করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মঙ্গলবার রাতে মারা যায়। অপরদিকে চৌমুহনী শহরের কালীতলা রোডের গগন চন্দ্র নিত্যানন্দ সাহার দোকানের এক কর্মচারী গত সাত/আট দিন যাবত্ জ্বর, সর্দি কাশিতে ভুগতে থাকাবস্থায় গ্রামের বাড়িতে যায়। মঙ্গলবার তার অবস্থার অবনতি ঘটলে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। রাতে সে মারা যায়।
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, জগন্নাথপুর উপজেলায় করোনা ভাইরাস উপসর্গ নিয়ে পাইলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে ৩৫ বছর বয়েসি ঐ গ্রাম পুলিশকে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আইসোলেশনে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার ভবেরপাড়া গ্রামে ইদ্রিস শাহ (৩৫) নামের একজন করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। বুধবার দুপুরে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মৃত ইদ্রিস শাহ মুজিবনগর উপজেলার ভবেরপাড়া গ্রামের সুফল শাহর ছেলে।