যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর সংখ্যা ফের বাড়তির দিকে

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবায় বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্র ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে। দেশটিতে যেন লাশের মিছিল থামছেই না। নিউ ইয়র্ক নগরী কার্যত মৃত্যুপুরি। বিপর্যয়ে পড়েছে ম্যাসাচুসেটসহ অনেকগুলো শহর। তবে মাঝে কয়েকটা দিন কমছিল যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা। ট্রাম্প প্রশাসন আশা করেছিল, হয়তো চূড়ায় পৌঁছে গেছে সংক্রমণ। এখান থেকে প্রতিদিনই কমতে থাকবে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। কিন্তু দেশটির কর্তৃপক্ষকে হতাশ করে ফের বাড়তে শুরু করেছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। গত ১৭ এপ্রিল ২ হাজার ৫০০ লোকের মৃত্যুর পর কমে পরপর দুই দিন কমছিল মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। কিন্তু তা ফের বাড়তে শুরু করেছে।

দেখা গেছে, ১৯ এপ্রিল সেখানে মারা গেছে ১ হাজার ৫০০ জন। পরের দিন এই সংখ্যা আবার উঠে যায় ১ হাজার ৯০০ জনে। তার পরের দিন এক লাফে প্রায় ২ হাজার ৩০০ জনে পৌঁছে যায়। যুক্তরাষ্ট্রে গতকাল পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছে ৮ লাখ ২৯ হাজার এবং মারা গেছে ৪৬ হাজার ১৫০ জন।

অন্যদিকে, গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ফ্রান্সে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫০ জন এবং মৃত্যু ২১ হাজার ৩৫০ জন, জার্মানিতে আক্রান্ত ১ লাখ ৫০ হাজার এবং মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৫ হাজার জনের। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার এবং মৃত্যু ১৮ হাজার ১০০ জন, ভারতে আক্রান্ত ২০ হাজার ৪০০ জন এবং মৃত্যু ৬৫২ জন।

এদিকে, আক্রান্তের দিক থেকে ইরানকে ছাড়িয়ে গেছে তুরস্ক। তুরস্কে মোট আক্রান্ত হয়েছে ৯৮ হাজার ৫৯১ জন এবং মোট মারা গেছে ২ হাজার ৩০০ জন। ইরানে মোট আক্রান্ত ৮৬ হাজার ৮০২ জন এবং মারা গেছে ৫ হাজার ২৯৭ জন।

চীনে ফের করোনার হানা :সংক্রমণ কমে গেছে বলে যখন চীন সন্তোষ প্রকাশ করে চলেছে, ঠিক তখন দেশটি আরেক দফায় করোনা ভাইরাসের বিস্তার রুখতে হিমশিম খাচ্ছে। এবার করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে ১ কোটি মানুষের শহর হারইনে। সংক্রমণ ঠেকাতে সেখানে কড়া লকডাউনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হেইলোংজিয়াং প্রদেশের রাজধানী হারইন সেখানকার সবচেয়ে বড়ো শহর। গতকাল শহরটিতে গাড়ি চলাচল ও লোকসমাগমে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। আবাসিক কম্পাউন্ডগুলোতে বাইরে থেকে আসা কারো প্রবেশ নিষিদ্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। দেশের বাইরে থেকে আসা মানুষের মাধ্যমেই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে ধারণা করছে চীন। দেশটিতে মোট আক্রান্ত হয়েছে ৮২ হাজার ৭০০ জন এবং মারা গেছে ৪ হাজার ৬০০ জন।

দক্ষিণ আফ্রিকা লকডাউন কার্যকর করতে ৭০ হাজার সৈন্য মোতায়েন করেছে।

কমছে বায়ুদূষণ :এদিকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় দেশে দেশে জারি করা লকডাউনে গাড়ি চলাচল ও কারখানায় উত্পাদন বন্ধ থাকায় বিশ্ব জুড়ে বায়ুদূষণ অভূতপূর্ব মাত্রায় কমেছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। বিশ্বের যেসব বড়ো শহর বায়ুদূষণের তালিকায় নিচের অবস্থানে ছিল, তিন সপ্তাহের লকডাউনে সেসব শহরের অবস্থা অনেকটা ভালো দেখা গেছে। কোনো কোনোটির প্রতি ঘনমিটার বাতাসে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বস্তুকণার পরিমাণ গত বছরের তুলনায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।

গতকাল পর্যন্ত বিশ্ব জুড়ে করোনা রোগীর সংখ্যা ছিল ২৬ লাখ ৬ হাজারের বেশি। আর মৃত্যুর সংখ্যা ১ লাখ ৮২ হাজার। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৭ লাখ ১৩ হাজার। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় স্পেন জানিয়েছে, তারা মধ্য মের আগে লকডাউন তুলবে না। অর্থনীতির ক্ষতি সত্ত্বেও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টিকে তারা গুরুত্ব দেবে। অন্যদিকে করোনার বিস্তার ঠেকাতে আসন্ন ঈদুল ফিতরে বিভিন্ন এলাকায় কর্মরত লোকজনকে বাড়ি ফেরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। আদেশ অমান্য করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুমকি দেওয়া হয়েছে।