ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় দুই ব্যবসায়ীর ঘর থেকে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৪ হাজার ৬০০ কেজি চাল উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ। নোয়াখালীর সেনবাগে উদ্ধার করা হয়েছে ১৫ বস্তা সরকারি চাল। সেই সঙ্গে চাল মজুতের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন আওয়ামী লীগের দুই নেতা। ত্রিশালে সরকারি চাল মজুত করায় গ্রেফতার হয়েছেন কৃষক লীগের এক নেতা। এ অপরাধে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। টাঙ্গাইলের সখীপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে। পালিয়েছে ডিলার। বগুড়ার আদমদীঘিতে সরকারি চাল উদ্ধারের ঘটনায় সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে প্রকৃত কার্ডধারীকে না দিয়ে অন্য ব্যক্তির কাছে সরকারি চাল বিক্রি করায় এক জনের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে।
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, গৌরীপুর উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের ভুটিয়ারকোনা বাজারে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে দুই ব্যবসায়ীর ঘর থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৪ হাজার ৬০০ কেজি চাল (৫০ কেজির ৯২ বস্তা) উদ্ধার করেছে। ঐ দুই ব্যবসায়ীর নাম আজহারুল ইসলাম ও ফজলু মুন্সি। আজহারুল ইসলামকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
সোমবার রাতে গৌরীপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে চাল ব্যবসায়ী ফজলু মুন্সির দোকান থেকে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৬৭ বস্তা (৩৩৫০ কেজি) চাল উদ্ধার করে। তার বাড়ি মাওহা ইউনিয়নের তাতীরপাঁয়া গ্রামে। ঘটনার পর থেকে সে পলাতক রয়েছে।
একইদিন দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেঁজুতি ধরের নেতৃত্বে গৌরীপুর থানা পুলিশ একই এলাকায় অভিযান চালিয়ে চাল ব্যবসায়ী আজহারুল ইসলামের ঘর থেকে ২৫ বস্তা (১২৫০ কেজি) চাল জব্দ করে এবং ঐ ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। আজহারুলের দাবি চালগুলো হতদরিদ্রদের কাছ থেকে ক্রয় করেছে সে। তবে স্থানীয়রা জানায়, ঐ চাল ডিলারদের কাছ থেকে ক্রয় করা হয়েছে। গৌরীপুর থানার ওসি বোরহান উদ্দিন জানান, চাল উদ্ধারের এ দুটি ঘটনায় দুই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সেনবাগে ১৫ বস্তা চাল উদ্ধার, দুই আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার
সেনবাগ (নোয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়ন থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি মূল্যের ১৫ বস্তা চাল কালোবাজারে বিক্রি করার অভিযোগে দুই আওয়ামী লীগ নেতাকে মঙ্গলবার আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা হলেন ডিলার ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান সাজু এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ইসমাইল হোসেন খান। এ সময় তাদের বিক্রি করা চাল নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামের আটটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয়। সেনবাগ থানার ওসি আবদুল বাতেন মৃধা বলেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে ডিলার শাহজাহান ও তার সহযোগী ইসমাইল খানের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল বুধবার আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ত্রিশালে কৃষক লীগের আহ্বায়ক গ্রেফতার, সাময়িক বহিষ্কার
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, সরকারি চাল অবৈধভাবে মজুত করার দায়ে বৈলর ইউনিয়ন কৃষক লীগের আহ্বায়ক আবু খালেককে গ্রেফতার করেছে ত্রিশাল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় সংগঠন থেকে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। ত্রিশাল থানা সূত্রে জানা যায়, ত্রিশাল উপজেলা খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্য উপ-পরিচালক শাহ আলম বাদী হয়ে ৩০ কেজির ১৬টি সরকারি চালের বস্তা মজুত করার অভিযোগে গত ১৩ এপ্রিল ত্রিশাল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মঙ্গলবার তাকে গ্রেফতার করা হয়। ত্রিশাল থানার ওসি (তদন্ত) সুমন রায় জানান, আবু খালেকের বিরুদ্ধে কালোবাজারি আইনে অবৈধ চাল মজুতের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
সখীপুরে ১২ বস্তা চাল উদ্ধার, ডিলার পলাতক
সখীপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইলের সখীপুরে হতদরিদ্রদের ১০ টাকা কেজি মূল্যের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১২ বস্তা চাল উদ্ধার করেছে টাঙ্গাইল ডিবি পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের চতলবাইদ ভাতকুড়াচালা গ্রামের দুইটি বাড়ি থেকে ঐ চাল উদ্ধার করা হয়। অভিযানের খবর পেয়ে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার এস এম ইব্রাহীম পালিয়ে যায়। এ সময় বাড়ির মালিক হাসেন মিয়া ও ঠান্ডু মিয়াকে আটক করা হয়।
আদমদীঘিতে সরকারি চাল উদ্ধার, সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা
আদমদীঘি (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, বগুড়ার আদমদীঘিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ২১ বস্তা চাল গত সোমবার সন্ধ্যায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। সরকারি চাল মজুত রাখার অপরাধে গত মঙ্গলবার চার জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত তিন জনের বিরুদ্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঐ চার জন হলো—আদমদীঘির কুন্দ্রগ্রামের চকপাড়ার সায়েদের ছেলে রেজাউল করিম, সাজ্জাদ হোসেন, মহির উদ্দীনের ছেলে ইদ্রিস আলী ও আঙ্গুর হোসেনের ছেলে শামসুল আলম। গত সোমবার বিকালে থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রেজাউল করিমের বাড়ি থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ২১ বস্তা চাল উদ্ধার করে। পুলিশের অভিযানের খবর পেয়ে চাল ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। ওসি জালাল উদ্দীন বলেন, আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তবে এর সঙ্গে আর কে কে জড়িত রয়েছে তাও খতিয়ে দেখা হবে।
কামারখন্দে এক জনের ডিলারশিপ বাতিল
কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির প্রকৃত কার্ডধারীকে চাল সরবরাহ না করে অন্য ব্যক্তির কাছে চাল সরবরাহ করায় ভদ্রঘাট এলাকার ডিলার সম্রাট বিপ্লব খান রাজিবের ডিলারশিপ মঙ্গলবার বাতিল করেছে প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, কালীবাড়ী ভদ্রঘাট গ্রামের কার্ডধারী সোনেকা বেগমের কার্ডের চাল অন্য এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার সম্রাট। সোনেকা বেগমের অভিযোগের ভিত্তিতেই সম্রাটের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়।
সাঘাটায় আট বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার
গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, সাঘাটা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের গাছাবাড়ী গ্রামের হোসেন আলীর বাড়ি থেকে বুধবার সকালে আট বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় হোসেন আলী পালিয়ে যায়।
বড়াইগ্রামে টিসিবির সয়াবিন তেলসহ কসমেটিক্স ব্যবসায়ী আটক
বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা জানান, নাটোরের বড়াইগ্রামে টিসিবির ৬০ লিটার সয়াবিন তেলসহ শাহ আলম সাজ্জাদ (৩৫) নামে এক কসমেটিক্স ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। শাহ আলমের বাড়ি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায়। বুধবার তাকে কোর্টের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।