করোনার উপসর্গ নিয়ে আরো আট জনের মৃত্যু

করোনার উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরো ৮ জন মারা গেছেন। এনিয়ে করোনার উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১৬৮ জনে।

বরিশাল অফিস জানায়, বুধবার বিকালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গড়িয়ারপার নামক স্থানে রাস্তার পাশ থেকে সুজিত হালদার (৪০) নামে বেক্সিমকো ফার্মার একজন এরিয়া ম্যানেজারের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় তার শরীরে পিপিই পরা ছিল। করোনা আতঙ্কে স্থানীয় লোকজন কাছে না গেলে পুলিশ এসে তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শাহে নেওয়াজ নামে তার একজন সহযোগী জানান, বরিশাল থেকে তারা গৌরনদী উপজেলায় যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মোটরসাইকেল দাঁড় করিয়ে রাস্তার পাশে একটি গাছের ওপর বসে পড়েন সুজিত। এর একটু পরেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।

রাজশাহী অফিস জানায়, রাজশাহীর বাগমারায় সর্দি-কাশি, জ্বর, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টে এক কৃষকের (৫২) মৃত্যু গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ১৫০ জনকে। বর্তমানে মোট আইসোলেশনে আছেন ৯০০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ১৫ জন। এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৫৯৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ২৪০ জনকে। এ পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ৩২৭ জনকে। এ পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ৭ হাজার ৩৩৯ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় মোট কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৫৬৭ জনকে এবং এ পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৩৭৩ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩ হাজার ১৭২ জন এবং এ পর্যন্ত মোট ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮০ হাজার ১৭৬ জন।

শুরুতে ডা. মো. শহীদুল্লাহ পিপিইসহ চিকিত্সসামগ্রী গ্রহণ ও বিতরণের তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সিএমএসডি (ঔষধাগার) থেকে নির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে যথাযথ মান পরীক্ষা করে রাজধানীসহ সারাদেশের হাসপাতালে মাস্ক ও গ্লাভস সরবরাহ করা হচ্ছে। সিএমএসডির বাইরে অনেক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগে বা অন্য কারো কাছ থেকে সংগ্রহ করে তা স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঝে বিতরণ করছে। ফলে এসব চিকিত্সাসামগ্রী ঘিরে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে কেনা কিংবা অনুদানে প্রাপ্ত সামগ্রীর ব্যাপারে চিকিত্সক ও নার্সরা জানেন না বলে (নিম্নমানের সামগ্রীর জন্য) সিএমএসডিকে দোষারোপ করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে এগুলো (নিম্নমানের মাস্ক ও গ্লাভস) সিএমএসডি থেকে সরবরাহ করা হয়নি। ডা. শহীদুল্লাহ জানান, ২১ এপ্রিল পর্যন্ত সিএমএসডি পিপিই সংগ্রহ করেছে ১৪ লাখ ৯৮ হাজার ১৫০টি। বিতরণ করেছে ১১ লাখ ৬৮ হাজার ২৪৮টি। বর্তমানে মজুত রয়েছে ৩ লাখ ২৯ হাজার ৯০২টি। সিএমএসডি প্রতিদিন গড়ে ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার পিপিই গ্রহণ ও বিতরণ করে থাকে। বর্তমানে সিএমএসডি বিভিন্ন গ্রেডের এবং উন্নতমানের পিপিই পাচ্ছে এবং কোভিড-১৯-এর জন্য ডেডিকেটেড হাসপাতালে বিতরণ করছে। এছাড়া লক্ষাধিক এন-৯৫, কেএন-৯৫, এসইপি-২ ও পি-২ বা সমমানের মাস্ক মজুত রয়েছে। এগুলো কোভিড হাসপাতাল ও পিসিআর ল্যাবরেটরিতে বিতরণ করা হচ্ছে। বুলেটিন উপস্থাপনকালে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে বাড়িতে থাকার এবং স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।