দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবজি চাষিদের ক্রান্তিকাল

করোনা ভাইরাসের থাবায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবজি চাষিদের দুরবস্থা চরমে। দোহাজারী রেলস্টেশন, রৌশন হাট, দারোগা হাট ও কমলমুন্সির হাট দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবজি ভান্ডার হিসাবে খ্যাত। এসব জায়গা থেকে  সড়ক, রেল ও নৌপথে চট্টগ্রামসহ, কক্সবাজার, বান্দরবানের পাইকারি বিক্রেতারা সবজি কিনে নিয়ে যান। কর্ণফুলি, শঙ্খ নদী, শ্রীমতী খালের পাহাড় বেষ্টিত এলাকা দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রতিদিনের সবজি বাজারের ৮০ শতাংশ জোগান দিয়ে থাকে। এই এলাকার মাঠ পর্যায়ের চাষিদের জীবিকার প্রধান উত্স সবজি চাষ। এই বছর পটিয়া উপজেলার শ্রীমতি খাল তীরবর্তী খরনা, কচুয়াই, কেলিশহর, রতনপুর, হাইদগাঁও এবং সাতকানিয়া উপজেলার শঙ্খ নদী তীরবর্তী কালিয়াইশ, ধর্মপুর, খাগরিয়া, বাজালিয়া, নলুয়া, আমিলাইশ, চরতি, ছদাহা, মাদার্শা এলাকায় সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। শিম, বরবটি, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, তিত করলা, আলু, বেগুন, মুলা, ফল, মরিচ, পেঁপে, কাঁকরোল, ঝিঙ্গা, ঢেঁড়স, পটল—এসব সবজি সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে। সবজি যে হিমাগার সংরক্ষণ করে রাখবে তাও নাই। পরিবহন সংকটের কারণেও সবজি পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি না হওয়ায় নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা। দুর্যোগ কখনো বলে কয়ে আসে না। দক্ষিণ চট্টগ্রামের চাষিদের দুরবস্থা ঘোচাতে সবজি সংরক্ষণে পর্যাপ্ত হিমাগার স্থাপন অতীব জরুরি। এ ব্যাপারে কৃষি মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করি।

শ্রীধর দত্ত

মেলঘর, পটিয়া, চট্টগ্রাম