কক্সবাজারে তাবলীগ ফেরত আরও এক ব্যক্তির করোনা ‘পজেটিভ’ রিপোর্ট মিলেছে। বৃহস্পতিবার পরীক্ষা করা ৫৩ স্যাম্পলে ৫২ জনের ফলাফল নেগেটিভ এলেও টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকার এক ব্যক্তির করোনা পজেটিভ এসেছে। তিনি তাবলীগ জামায়াতে দীর্ঘদিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় সময় কাটিয়ে গত সপ্তাহ খানেক আগে এলাকায় ফিরেন। কয়েকদিন আগে অসুস্থবোধ করলে চিকিৎসা সেবা নিতে গিয়ে তার বাইরে থেকে আসার তথ্যটি প্রচার পায়। এরপরই তার স্যাম্পল সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে পাঠানো হয়। সেখানে অন্য স্যাম্পলের সাথে পরীক্ষায় তার রিপোর্টটি পজেটিভ আসে বলে জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে গত ১৯ তারিখ একদিনেই চারজনের করোনা পজেটিভ আসে। এদের মাঝে একজন টেকনাফের বাকি তিনজন মহেশখালীর। তারা সবাই নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা ফেরত। গতকাল বুধবার (২২ এপ্রিল) আরো এক করোনা পজেটিভ পাওয়া যায়। কক্সবাজার শহরের মাছ ব্যবসায়ী এ বাসিন্দাও নারায়ণগঞ্জ ফেরত। ফলে নারায়ণগঞ্জকে দেশের সবচেয়ে করোনা প্রবণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
দেশে করোনা প্রভাবের পর থেকে কক্সবাজার জেলায় এনিয়ে ৭ জনের করোনা পজেটিভ এসেছে। এদের একজন ওমরাহ ফেরত, বাকি ৬ জনই ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ ফেরত। করোনা পজেটিভের মাঝে প্রথম সনাক্ত নারীর বাড়ি চকরিয়া, পরেরজন নাইক্যংছড়ির ঘুমধুম, তিনজন মহেশখালী, দু'জন টেকনাফ ও আরেকজন কক্সবাজার শহরের টেকপাড়ায়।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে ল্যাব চালু হওয়ার ২৩ দিনে ৬১৪ জন সন্দেহজনক রোগীর করোনা টেষ্ট হয়েছে। যাদের মধ্যে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৭ জনের রিপোর্ট পজিটিভ পাওয়া গেল।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ক্লিনিক্যাল ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডা. মো. শাহজাহান নাজির তথ্যের সত্যতা জানিয়ে বলেন, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে বৃহস্পতিবারও ৫৩ সন্দেহজনক রোগীর করোনাভাইরাসের নমুনা টেষ্ট করা হয়। এদের মধ্যে টেকনাফের এক বাসিন্দার করোনা পজেটিভ এসেছে। বাকিসব রিপোর্টই নেগেটিভ।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ ডা. অনুপম বড়ুয়া বলেন, বুধবার কক্সবাজার সদর হাসপাতাল, রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ জেলার আশপাশ এলাকা থেকে ৫৩জনের নমুনা ল্যাবে আসে। বৃহস্পতিবার সব পরীক্ষার পর ৫২ জন নেগেটিভ এলেও বাকি একজনের করোনা পগেটিভ এসেছে। সকল পরীক্ষার নমুনার প্রতিবেদন ঢাকায় আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। ওখান থেকেই আনুষ্টানিক ভাবে রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ইত্তেফাক/এসি