আরো সাত জনের মৃত্যু নতুন শনাক্ত ৪১৪

মহামারি করোনা ভাইরাস গত ২৪ ঘণ্টায় আরো সাত জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে দেশে ১২৭ জনের মৃত্যু হলো। আক্রান্ত হিসেবে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরো ৪১৪ জন। ফলে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার হাজার ১৮৬ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন আরো ১৬ জন। ফলে মোট সুস্থ হয়েছেন ১০৮ জন।

গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা ভাইরাস-সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, করোনা ভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আইইডিসিআরসহ ২১টি প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার ৯২১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়; এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয় ৩ হাজার ৪১৬টি। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৬ হাজার ৯০টি। গতকাল মৃত সাত জনের মধ্যে পাঁচ জন পুরুষ ও দুই জন নারী রয়েছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শিগিগর ২ হাজার চিকিত্সক ও ৬ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হবে। বর্তমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন করে এই ৮ হাজার চিকিত্সক-নার্স নিয়োগ দেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, ভিআইপিদের জন্য আলাদা হাসপাতাল তৈরি করা হচ্ছে—বিষয়টি সঠিক নয়। সবার জন্যই একই হাসপাতাল ও একই চিকিত্সার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কেউ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের বিবৃতি দেবেন না। যার কারণে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়, যা সরকারি নীতিবহির্ভূত।’                কোনো হাসপাতাল লকডাউন হয়নি জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‘কোনো হাসপাতালই লকডাউন করা হয়নি এবং হবে না। অন্যান্য হাসপাতালে স্বাভাবিক চিকিত্সা বজায় আছে এবং থাকবে। আমাদের সব হাসপাতালে যেসব ওষুধ সরকার দিয়ে থাকে, সেগুলো সরবরাহ এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।’

ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ‘নতুন করে আরো তিনটি জেলায় করোনা সংক্রমিত হয়েছে।  ফলে মোট আক্রান্ত জেলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮টি। নতুন আক্রান্ত তিনটি জেলা খুলনা বিভাগের। এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের ৮৫ দশমিক ২৬ শতাংশ রাজধানী ঢাকা ও ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। ৪৫ দশমিক ৫১ শতাংশ ঢাকা নগরের বাসিন্দা। ঢাকা বিভাগের অন্যান্য জেলা মিলিয়ে এ সংক্রমণের হার ৩৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ। মোট আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ৬৮ শতাংশ ও নারী ৩২ শতাংশ।’ তিনি বলেন, ‘দেশে করোনা ভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণ ঘটেছে। যখন কোথাও সংক্রমণ ঘটলে এর উত্স জানা যায় না বা আক্রান্ত ব্যক্তি কীভাবে সংক্রমিত হলেন তা বোঝা যায় না, তখন সে অবস্থাকে সামাজিক সংক্রমণ বলে। বাংলাদেশ এখন সংক্রমণের তৃতীয় ধাপে রয়েছে।’ বুলেটিন উপস্থাপনকালে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে বাড়িতে থাকার এবং স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।