সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার দাবি কয়েকটি দলের

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার জন্য পরামর্শ দিয়েছে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। সংক্রমণের সময়কালকে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ ঘোষণা করে পরিস্থিতি সামলাতে দেশ জুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণার কথাও বলছে এসব দল। করোনার দুর্যোগে করণীয় নির্ধারণে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন এসব দলের শীর্ষ নেতারা। সব দলের প্রতিনিধি, চিকিত্সক, গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও সমাজের গণ্যমান্যদের সমন্বয়ে একটি ‘জাতীয় টাস্কফোর্স’ গঠনেরও সুপারিশ করেছেন তারা। এসব পরামর্শ তুলে ধরা দলগুলোর মধ্যে যেমন সরকারবিরোধী দল-জোট রয়েছে, একইভাবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের একাধিক শরিকও আছে।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় কিংবা কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে যাওয়ায় একে ‘মহাদুর্যোগ’ আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই ‘জাতীয় টাস্কফোর্স’ গঠনের দাবি জানান তিনি। গত ১৭ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির পক্ষ থেকে তিনি এই দাবি তুলে ধরেন।

মির্জা ফখরুল ইত্তেফাককে বলেন, এই টাস্কফোর্সে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিশিষ্ট সাংবাদিক, বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক, অর্থনীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানী, সশস্ত্র বাহিনী ও অন্যান্য বাহিনীর প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টি করে এই টাস্কফোর্সকে অর্থবহ ও গতিশীল করার মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।’ টাস্কফোর্স গঠনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এখন যে পরিস্থিতি টাস্কফোর্স গঠন করলে সুসমন্বিত, সুচিন্তিত ও সুবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধ, জনগণের জীবনের সুরক্ষা, অর্থনৈতিক দুর্ভোগ লাঘব ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করে প্রশাসনের তৃণমূল পর্যন্ত সক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা বলছে ১৪ দল শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। গত রবিবার পার্টির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে দলটি এই পরামর্শ দিয়েছে। পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে—এই টাস্কফোর্স সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জবাবদিহি করবে। স্মারকলিপির কপি সব রাজনৈতিক দলের কাছেও পাঠিয়েছে ওয়ার্কার্স পার্টি।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের মতো ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননও বলেন, যথোপযুক্ত বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির নেতৃত্বে চিকিত্সক, এপিডোমলজিস্ট, ভাইরোলজিস্ট, মাইক্রোবায়োলজিস্ট, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, বিএমএ প্রতিনিধি ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে টাস্কফোর্স গঠন করা জরুরি। একইসঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় ঠিক করতে অবিলম্বে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা জরুরি বলেও মত দেন মেনন।

মহামারি মোকাবিলায় অবিলম্বে সর্বদলীয় সভা ডেকে সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোটও। মঙ্গলবার জোটের এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, সরকারের ‘একলা চলো নীতি’ দেশকে ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। করোনা ভাইরাস সংকটকে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ ঘোষণা করে সব দলের নেতা ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়ে বাম জোটের অন্যতম প্রধান শরিক বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, সরকার দলীয় সংকীর্ণতা নিয়ে একগুঁয়েমি করে একলা চলো নীতি নিয়ে চলছে। এখনো সময় আছে অবিলম্বে সর্বদলীয় সভা ডেকে সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করে করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে হবে। ১৪ দলের আরেক শরিক জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর মতে, এখন দলাদলির সময় নয়। জাতির সামনে মহামারি ও ভয়াবহ দুর্যোগ চলছে। দেশের মানুষকে রক্ষায় সব দলকে নিয়ে একযোগে উদ্যোগ নিতে হবে।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় মুক্তিমঞ্চের আহ্বায়ক ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ইত্তেফাককে বলেন, সরকারের উচিত জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করে দেশব্যাপী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা। মানুষকে ঘরে রাখতে না পারলে পরিস্থিতি ভয়াবহ দিকে মোড় নিতে পারে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনও।