প্রতি ঋণের বিপরীতে কর্তন হবে আবগারি শুল্ক

এতদিন যে কোনো ব্যাংকে গ্রাহকের হিসাবে স্থিতি এক লাখ টাকার উপরে থাকলে বছরে একবারই নির্দিষ্ট হারে আবগারি শুল্ক কর্তন করা হতো। তবে এখন থেকে ব্যাংকে গ্রাহকদের মূল হিসাবের পাশাপাশি প্রত্যেক ঋণের বিপরীতে আবগারি শুল্ক কর্তন করতে হবে। দেশি-বিদেশি সব ধরনের বাণিজ্যিক ব্যাংকের গ্রাহকের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশব্যাপী মাঠ পর্যায়ের সব কমিশনার অফিসেও এ নির্দেশনার বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।  কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে এনবিআরের এ নির্দেশনা জানিয়েছে।

এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বছরে একবারই আবগারি শুল্ক কর্তন হবে, নাকি প্রতিটি এলএটিআর কিংবা যে কোনো ধরনের ঋণ চুক্তির বিপরীতে প্রতিবারই ব্যাংকে গ্রাহকের স্থিতির ওপর আবগারি শুল্ক কর্তন হবে-তা জানতে এনবিআরের মতামত চেয়ে চিঠি পাঠায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ বিষয়ে ত্রিপক্ষীয় সভা করে। ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সব ধরনের ঋণ চুক্তির বিপরীতে আবগারি শুল্ক কর্তন করা হবে। এনবিআরের ভ্যাট নীতি বিভাগের দ্বিতীয় সচিব তারেক হাসান স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়। এছাড়া ঋণ নেওয়ার পর উভয় হিসাব (ঋণ ইস্যুকৃত হিসাব ও স্থানান্তরকৃত হিসাব) থেকেও আবগারি শুল্ক কর্তন করতে হবে ব্যাংকগুলোকে।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে ১ লাখ টাকার বেশি স্থিতি হলে ব্যাংক হিসাব থেকে আবগারি শুল্ক কর্তনের বিধান করা হয়। ১ লাখের ঊর্ধ্বে এবং ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত স্থিতির বিপরীতে ১৫০ টাকা আবগারি শুল্ক কাটা হচ্ছে। ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত শুল্ক ৫০০ টাকা, ১০ লাখ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ২ হাজার ৫শ’ টাকা, ১ কোটি থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ১২ হাজার এবং ৫ কোটির ঊর্ধ্বে হলে ২৫ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক আদায়ের বিধান রয়েছে। ব্যাংকগুলো গ্রাহকের আমানতের সর্বোচ্চ আমানতের বিপরীতে বছরে একবারই আবগারি শুল্ক কর্তন করত। তবে ব্যাংকগুলো প্রতিবার ঋণের বিপরীতে গ্রাহকের হিসাবের স্থিতির ওপর আবগারি শুল্ক কর্তন করবে কিনা-তা নিয়ে অস্পষ্টতা ছিল।

নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়ন হলে একজন গ্রাহক ঋণ গ্রহণ করলে একাধিকবার আবগারি শুল্ক পরিশোধের বাধ্যবাধকতার মধ্যে আসবেন। অন্যদিকে ব্যাংকাররাও বলছেন, এনবিআরের এ নির্দেশনার ফলে ব্যাংকের গ্রাহকদের ব্যয় বেড়ে যাবে। নিয়ম অনুযায়ী একজন গ্রাহকের একটি হিসাবের সর্বোচ্চ স্থিতির ওপর বছরে একবার আবগারি শুল্ক প্রযোজ্য হয়। বড় গ্রাহকদের মূল হিসাবের বাইরে অনেক ঋণ চুক্তি হয়। এরূপ প্রতিটি চুক্তির বিপরীতে আবগারি শুল্ক আরোপ করা হলে তা গ্রাহকদের জন্য অতিরিক্ত বোঝা সৃষ্টি করবে।

অবশ্য প্রতিটি লেনদেনের বিপরীতে আবগারি শুল্ক আদায়কে যৌক্তিক বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, এটি কার্যকর হলে সুষমভাবে আবগারি শুল্ক আদায়ের সুযোগ তৈরি হবে। তবে মোট স্থিতির ওপর না হয়ে লেনদেনের ওপরে হওয়া উচিত এবং কর্তনকৃত অর্থ যাতে সঠিকভাবে রাজস্ব কোষাগারে আসে, তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।