সিলেট-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ত্রিমুখী

সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাবেক এমপি ড. হাফিজ আহমদ মজুমদারকে বিজয়ী করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে নেতাকর্মীদের। সীমান্তের এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছাড়াও ধানের শীষে লড়ছেন ২৩ দলীয় জোটের শরীক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুক। লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে মহাজোটের শরীক জাপার বর্তমান এমপি সেলিম উদ্দিন দশম সংসদ নির্বাচনে এ আসনে এমপি নির্বাচিত হলে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। বিভিন্ন কারণে সাধারণ মানুষের কাছে ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি পান। তৈরি করেন নিজস্ব একটি ভোট ব্যাংক। এবারের নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি আসনটি ধরে রাখতে চান। ব্যক্তি ইমেজ, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও পার্টির ভোট ব্যাংককে পুঁজি করে বিজয়ী হতে শেষ চেষ্টায় আছেন সেলিম উদ্দিন। সেলিম উদ্দিন বলেন, আমার উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে জনগণ লাঙ্গল মার্কায় গণরায় দিবেন। জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের উন্নয়নের জন্য মানুষ আমাকে নির্বাচিত করবে। ৩০ ডিসেম্বর বিজয়ের মালা পরবো।

এদিকে, নবম সংসদ নির্বাচনে হাফিজ মজুমদার ৩১ হাজার ৬শ ৩৫ ভোটের ব্যবধানে চার দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে পরাজিত করেছিলেন। এবারো জামায়াতের ফরিদ চৌধুরী এ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু বিএনপি এ আসনে জামায়াতের পরিবর্তে জমিয়তের হাতে তুলে দেয় ধানের শীষ। এতে প্রথম দিকে জামায়াত বেঁকে বসলেও শেষ সময়ে সমর্থন দিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীকে। কিন্তু সমর্থন দিলেও জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এখনো ধানের শীষের পক্ষে মাঠে নামতে দেখা যায়নি। ক্লিন ইমেজের হাফিজ মজুমদার সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী। দুইবারের সাংসদ থাকাবস্থায় এলাকায় তিনি অনেক উন্নয়ন কাজ করেছেন। নির্বাচনী এলাকা জকিগঞ্জ-কানাইঘাট ছাড়াও পুরো সিলেটের শিক্ষা উন্নয়নে কাজ করছে তাঁর প্রতিষ্ঠিত হাফিজ মজুমদার শিক্ষা ট্রাস্ট। অবহেলিত এলাকায় বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে ‘সীমান্তের মশাল’ হিসেবে পরিচিতিও লাভ করেছেন। দলীয় মার্কা ও ব্যক্তি জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে হাফিজ আহমদ মজুমদারকে বিজয়ের মালা পরাতে জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের আওয়ামী লীগ মাথা বেঁধে কাজ করছেন। মান অভিমান ভেঙে এ আসনে নৌকা প্রতীকের প্রত্যাশী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আহমদ আল কবির, সাবেক ছাত্রনেতা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোশতাক আহমেদ, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা আব্দুল মোমিন চৌধুরী নৌকা প্রতীকে ঐক্যবদ্ধ।

এ আসনে আল্লামা ফুলতলীর আঞ্জুমানে আল ইসলাহর কর্মী-সমর্থকরা ভোটের মাঠে ফ্যাক্টর। আল ইসলাহ আনুষ্ঠানিকভাবে হাফিজ মজুমদারকে সমর্থন দিয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও নৌকাকে সমর্থন জানিয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবে। ‘উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই’ এই বক্তব্যকে ভোটার সামনে তুলে ধরে নৌকায় ভোট চেয়েছেন নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। জকিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি লোকমান উদ্দিন চৌধুরী বলেন, যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, সততায় হাফিজ মজুমদার অনন্য। উন্নয়নের স্বার্থেই জকিগঞ্জ-কানাইঘাটবাসী এবার নৌকাকে বিজয়ী করবে। নৌকা বিজয়ী হলে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটে।

অপরদিকে, ধানের শীষের প্রার্থী উবায়দুল্লাহ ফারুক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে রয়েছেন দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে। ভোটের মাঠে তিনি নতুন খেলোয়াড় নন। এলাকার সাধারণ ভোটারদের কাছে তিনি খুব পরিচিত মুখ না হলেও ইসলামপন্থি একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে তাঁর। ২০০৮ সালে ৮ম সংসদ নির্বাচনে খেজুর গাছ প্রতীক নিয়ে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রায় ৯ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। এবারের নির্বাচনে উবায়দুল্লাহ ফারুকের সবচেয়ে বড় পুঁজি ধানের শীষ। ধানের শীষকে পুঁজি করেই এবার উবায়দুল্লাহ ফারুককে বিজয়ের মালা পরাতে চান নেতাকর্মীরা।