নিদাহাস কাপ ফাইনাল
স্পোর্টস রিপোর্টার
একটা ট্রফির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছিল বাংলাদেশ জাতীয় দল। ২০১৮ সালে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে নিদাহাস কাপের ফাইনালে এসেছিল ট্রফি জয়ের সুযোগ। নাগালে এসে পড়েছিল জয়। তাও ভারতের মতো দলের বিপক্ষে। ১৮ মার্চ রাতে প্রেমাদাসায় বাংলাদেশের ট্রফির স্বপ্নকে রীতিমতো ‘খুন’ করেছিলেন দিনেশ কার্তিক। সাত নম্বরে নেমে তার অবিশ্বাস্য বিস্ফোরক ব্যাটিংই বাংলাদেশকে হতাশায় ডোবায়।
সৌম্য সরকারের করা ম্যাচের শেষ বলে ছক্কা মেরে স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনায় বাংলাদেশকে পোড়ান কার্তিক। দুই বছর পর নিদাহাস কাপের ফাইনালে সেই আগুনে ব্যাটিং নিয়ে ক্রিকবাজের সঙ্গে কথা বলেছেন ভারতীয় এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। তিনি বলেছেন,
ব্যাটিংয়ে নামার আগেই পরিকল্পনা করেছেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যাটিং করেই ভারতকে রুদ্ধশ্বাস জয় এনে দিয়েছিলেন।
বাংলাদেশের ১৬৬ রানের জবাবে অধিনায়ক রোহিত শর্মার হাফ সেঞ্চুরিতে ভালোই এগুচ্ছিল ভারত। রোহিত আউট হতেই বিপাকে পড়ে ভারত। কার্তিক যখন উইকেটে যান তখন ভারতের স্কোর ছিল ৫ উইকেটে ১৩৩ রান। শেষ ১২ বলে ৩৪ রানের কঠিন সমীকরণের মুখে পড়ে ভারত। রুবেলের করা ১৯তম ওভারে রুদ্রমূর্তি ধারণ করা কার্তিক তুলে নেন ২২ রান। শেষ ওভারে সৌম্য রেশ টেনে ধরেছিলেন। অন্তিম বলে ভারতের প্রয়োজন ছিল ৫ রান। কার্তিকের মারা তীব্র গতির শট ভূমি থেকে সামান্য ওপরে থেকেই সীমানা দড়ি অতিক্রম করে।
দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় দলে খেলছেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। ভারতের হয়ে টেস্টে ওপেনিং করেছেন। কিন্তু কার্তিককে মনে রাখবে ভারতীয় ক্রিকেট নিদাহাস কাপের ফাইনালে খেলা ৮ বলে অপরাজিত ২৯ রানের ইনিংসেই।
ম্যাচের আগে অনুশীলন এমন পরিবেশ কল্পনা করেই অনুশীলন করতেন কার্তিক। যা উইকেটে যাওয়ার আগে তাকে আত্মবিশ্বাস যুগিয়েছে এবং কাজটা সহজ করে দিয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘আমি যখন নামলাম, তখন অবশ্যই একটা পরিকল্পনা ছিল মাথায়। এসব ক্ষেত্রে অনুশীলন আপনাকে সাহায্য করে। আপনি অনুশীলনে একটা জিনিস বারবার করতে থাকলে, সেটা আপনার মধ্যে অটো মুডে চলে আসে। আপনার কী করা উচিত—এটা জেনে গেলে সেটা অর্জন করা খুব সহজ হয়।’
১২ বলে ৩৪ রানের সমীকরণ পাড়ি দেওয়ার আত্মবিশ্বাস ছিল ৩৪ বছর বয়সি কার্তিকের মাঝে। তিনি বলেছেন, ‘উইকেটে যাওয়ার সময় বিশ্বাস ছিল আমি এটা পারব, মঞ্চটা আমার জন্যই প্রস্তুত ছিল। শুধু কাজটা শেষ করতে হবে। এসব সময় প্রোগ্রামিংয়ের মতো আগায় সবকিছু। বোলার কোথায় বোলিং করবে, গ্যাপ কোথায় আছে—এসব স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাথায় চলে আসে। ফিনিশার হিসেবে ধারাবাহিক হওয়ার জন্য পুরো ইনিংসটা প্রোগ্রাম করেই নামতে হয়।’