নেত্রকোনার হাওরে ৫৬ ভাগ ধান কাটা শেষ

 ‘অহন বন্যা আইলেও আর ক্ষতি করতারতো না,

আওরের ধান কাডা শেষ’

শ্যামলেন্দু পাল, নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনা জেলার মদন, মোহনগঞ্জ এবং খালিয়াজুরী উপজেলার হাওরগুলোতে বেশির ভাগ বোরো ধান কাটা হয়ে গেছে। আর এখন জেলায় ধান কাটার শ্রমিক সংকট নেই। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত হাওরের নিচু এলাকার ৫৬ ভাগ জমির ধান কাটা হয়েছে। নেত্রকোনার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ডিডি মো. হাবিবুর রহমান জানান, তিন হাওর উপজেলার নিচুতে (বন্যা এলাকা) আবাদকৃত ৪০ হাজার ৮৬৫ হেক্টর জমির মধ্যে গতকাল পর্যন্ত ধান কাটা হয়েছে ২২ হাজার ৯৪৫ হেক্টরের।

গতকাল শুক্রবার এবং গত বৃহস্পতিবার খালিয়াজুরীর বোয়ালী এবং মোহনগঞ্জে গিয়ে দেখা গেছে, আবহাওয়া ভালো থাকায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধান কাটা চলছে। কৃষক আলাল মিয়া স্থানীয় ভাষায় বলেন, ‘যেভাবে সরকার আমরারে ধান কাটার জন্য হারভেস্টর দিছে, হের লেইগ্যাই অহন তড়াতড়ি (তাড়াতাড়ি) ধান কাটতাম পারতাছি। অহন বন্যা আইলেও আর ক্ষতি করতারতো না। আওরের (হাওর) জমির ধান কাডা শেষ”। 

কৃষি বিভাগ জানায়, কৃষকদের পাশাপাশি সংগঠনও ধান কাটায় কৃষকদের সহায়তা করছেন। সব মিলে ১৩ হাজার ৭০০ শ্রমিক নিত্য ধান কাটছেন। সঙ্গে রয়েছে ৬৪টি হারভেস্টর এবং ২৫টি রিপার মেশিন। মাঠে রয়েছে জেলা পুলিশ কর্তৃক গঠিত তিন উপজেলা তদারকির জন্য তিনটি সার্বক্ষণিক পুলিশ টিম।   মাঠে কর্মরত গ্রামবাসীর এক কথা, এই করোনা দুর্যোগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এবং আগাম বন্যার হাত থেকে বোরো ফসলকে রক্ষার জন্য উচিত দ্রুতগতিতে ধান কেটে তা ঘরে তোলা। আগামী ৮/১০ দিনের মধ্যে হাওর উপজেলার সমতল জমিসহ অন্য উপজেলারও ধান কাটা প্রায় শেষ হয়ে যাবে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান খালিয়াজুরী হাওর এলাকা পরিদর্শন শেষে এই প্রতিনিধিকে বলেন, যেভাবে ধান কাটা শেষ হচ্ছে, তাতে কৃষকরা খুশী। এখন বৃষ্টি হলেও বাঁধের কারণে ধানের আর কোনো ক্ষতি হবে না। জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম বলেন, তিনি ইতিমধ্যে হাওর উপজেলাগুলো একাধিকবার পরিদর্শন করেছেন এবং হাওরের ধান কাটা শেষের পথে। শ্রমিকদের অন্য জেলা থেকে আনা-নেওয়ার ব্যাপারে জেলা প্রশাসন পুলিশের সহযোগিতায় কাজ করেছে। ফলে শ্রমিক সংকট এখন আর নেই। এই শ্রমিকরা নেত্রকোনায় আরো এক মাস ধান কাটতে পারবে। অর্থনৈতিকভাবেও তারা লাভবান হবেন।