বিবিসি
চীনের সঙ্গে ভিয়েতনামের রয়েছে দীর্ঘ স্থল সীমান্ত, অনেক ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বহুমাত্রিক যোগাযোগ। চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের মহামারিতে পুরো বিশ্ব যখন বিপর্যস্ত, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভিয়েতনামে মৃত মানুষের সংখ্যা শূন্য এবং আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মাত্র ২৬৮ জন। চীনের প্রতিবেশী হওয়া সত্ত্বেও সাড়ে ৯ কোটি মানুষের দেশ ভিয়েতনাম কীভাবে নিজেকে এতটা সুরক্ষিত রাখতে পারল?
গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই ভিয়েতনাম করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে বেশ কড়াকড়ি ব্যবস্থা নিয়েছিল। তাদের সব বিমানবন্দরে যাত্রীদের কঠোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালু করা হয়েছিল। বিমানবন্দরে এসে নামা যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা মাপা হতো এবং তাদেরকে একটি স্বাস্থ্য-ফর্ম পূরণ করতে হতো। সেই ফর্মে যাত্রীদের উল্লেখ করতে হতো, তারা কার কার সংস্পর্শে এসেছে, কোথায় কোথায় গিয়েছে।
ভিয়েতনামের যে কোনো বড়ো শহরে ঢুকতে বা সেখান থেকে বেরোতে গেলে এসব তথ্য এখনো জানাতে হয়। কোনো সরকারি দপ্তরে বা হাসপাতালে ঢুকতে গেলেও এসব তথ্য দিতে হয়। কারো শরীরের তাপমাত্রা যদি ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকে, তাকে সঙ্গে সঙ্গে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় অধিকতর পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য। এর পাশাপাশি প্রথম থেকেই দেশ জুড়ে করোনা টেস্ট এবং কনট্যাক্ট ট্রেসিং (আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে কারা কারা এসেছিল) এর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। কোনো এলাকায় মাত্র একটি সংক্রমণ ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা লকডাউন করে দেওয়া হয়।
ভিয়েতনামে দ্বিতীয় যে বিষয়টির ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল সেটা হচ্ছে, টার্গেট করে করে কঠোর কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা চালু করা। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে যেসব ভিয়েতনামী নাগরিক বিদেশ থেকে ফিরেছে, তাদেরকে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয়েছে এবং করোনা টেস্ট করতে হয়েছে। ভিয়েতনামে আসা বিদেশিদের বেলাতেও একই নীতি নেওয়া হয়। দেশের ভেতরেও একটি বড়ো শহর থেকে আরেকটি বড়ো শহরে যেতে হলে একই ধরনের কোয়ারেন্টাইনের নীতি চালু রয়েছে। ভিয়েতনামের সাফল্যের পেছনে তৃতীয় বিষয়টি হলো, তাদের যোগাযোগ ও তথ্য সরবরাহ। শুরু থেকেই সরকার এই ভাইরাসটি যে কত মারাত্মক, সে ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করার চেষ্টা করেছে এবং তাদের বার্তাটি ছিল স্পষ্ট।
ভিয়েতনাম যেভাবে করোনা ভাইরাসের মোকাবিলা করছে, সেটি হয়তো কোনো পশ্চিমা দেশের সঙ্গে মিলে না, কিন্তু এটি ভিয়েতনামে কাজ করছে। সেখানে প্রতিটি আক্রান্ত ব্যক্তি চিকিত্সার সুযোগ পাচ্ছে। কাজেই ভিয়েতনাম অন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটা উদাহরণ।