ভারতে নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব কতটা সম্ভব?

লকডাউন জেনেও এখনো অনেক খেটে খাওয়া মানুষ বাস, রেল স্টেশনে ভিড় করছে।

তাদের ধারণা, একটা কাজ মিলে গেলে কিছুটা হলেও অর্থকষ্ট ঘুচবে

বিবিসি

করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে সামাজিক কিংবা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার জন্য চিকিত্সা বিশেষজ্ঞরা বারবার পরামর্শ দিলেও তা কতখানি পালন করা হচ্ছে সেই প্রশ্ন এখন গোটা বিশ্বে ঘুরে ফিরে আসছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কথাগুলো মুখে মুখে যতটা বলা হচ্ছে বাস্তবিক অর্থে তা ততটা মানা হচ্ছে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ন্যায় ভারতেও একই চিত্র বিদ্যমান।

১৩০ কোটিরও বেশি জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই দেশটিতে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব কমপক্ষে এক মিটার মেনে চলার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ কথাটি বহুবার বলেছেন। তিনি বলেছেন, এই ঘাতক ব্যাধি থেকে আমাদের বাঁচতে হলে নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। এই ডাকে সচেতন সমাজ সাড়া দিলেও অনেকেই তা বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না বলে বিবিসির দিল্লি প্রতিনিধি গীতা পান্ডের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তিনি বলেছেন, অভিবাসী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে এ চিত্র বেশি দেখা যায়। লকডাউন জেনেও অনেক খেটে খাওয়া মানুষ বাস, রেল স্টেশনে এখনো ভিড় করছে। তারা বলছেন, এর মাধ্যমে যদি একটু কাজের সন্ধান পাওয়া যায়, তাহলে কিছুটা হলেও তাদের অর্থকষ্ট দূর হবে। দিল্লি প্রতিনিধি বলেন, কাজের সন্ধানে গেলেও সঙ্গে করে তারা নিয়ে আসছেন করোনাকে। তিনি আরো বলেন, এখনো অনেক শ্রমিকের মধ্যে এই বিশ্বাস রয়েছে যে, এই বুঝি লকডাউন তুলে দেওয়া হচ্ছে। আর এ কারণে তারা প্রায় প্রতিদিনই বাস, ট্রেন স্টেশনে ভিড় করছেন।