আলোকপাত

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে

বাংলাদেশকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। করোনা সংক্রমণের তৃতীয় সপ্তাহের পর থেকে কমিউনিটি ট্রান্স মিশন প্রবলভাবে দেখা দিয়েছে। ঢাকা মহানগরতো বটেই, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মাদারীপুর, ভোলাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল আজ করোনা আক্রান্ত রোগীদের চাপে বেসামাল হয়ে পড়েছে। প্রায় সবকটি গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে রোগীদের চিকিত্সার জন্য। উদেবগ দিনে দিনে বাড়ছে। শতাধিক চিকিত্সক আজ করোনা আক্রান্ত। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পাঁচ চিকিত্সক অসুস্থ।

করোনা ভাইরাস বিস্তারের নানাদিক উঠে এসেছে। আক্রান্ত মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা অগণন। প্রতিরোধ প্রস্তুতি চলছে। সারা পৃথিবী জুড়ে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে উদ্বিগ্নতা বাড়ছে। নানা তথ্য অনুসন্ধানে ১০০ ভাগ সফলতা আসেনি।

হাতে লেগে থাকা জীবাণু দিয়ে সাধারণ মানুষ প্রতিঘণ্টায় অন্তত ২৩ বার মুখে স্পর্শ করে এটা উদ্বেগের। আজব দুনিয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে অজস  জীবাণু। নানা কেমিক্যাল থেকে বায়ুদূষণ হচ্ছে। প্রাণী বয়ে বেড়াচ্ছে নানা ক্ষতিকর জীবাণু। মানুষের দেহ অভ্যন্তরে মজুত ও বৃদ্ধি পাওয়া এই জীবাণুরা বিপদ ডেকে আনছে। দেহ অভ্যন্তরে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধরে রাখতে পারছে না আগের মতো, বিকল হচ্ছে। এক খবরে জানা গেল আমাদের দেশে তরুণ প্রজন্ম করোনা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। কারণ লকডাউনের সময় তারা বাইরে বের হচ্ছে বেশি। বিদেশে বয়স্করা করোনা রোগে আক্রান্ত বেশি হয়। তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজন সবাইকে ঘরে ফেরাবার কাজে ব্যস্ত রয়েছে। তবু কাজ হচ্ছে না।

বিজ্ঞান অনেক এগিয়েছে। নিত্য নতুন যন্ত্র আবিষ্কার হচ্ছে। আমরা যন্ত্রের মতো হয়ে যাচ্ছি। আমাদের মানবিকতা হারাচ্ছে। স্বার্থপরতা প্রভাব প্রতিপত্তি অর্জন আর নিজেকে জাহিরের মতো কাজগুলো আমরা করে যাচ্ছি অবলীলায়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে। সন্ধ্যা ছয়টা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত লোকজনের চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ কোনো সুফল বয়ে আনছে না। সারাদিন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ঘুরছে। স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। বাজারে, শপিং মল চা-দোকান ঘিরে আড্ডা অব্যাহত আছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে। নানা অজুহাত দেখিয়ে মানুষ চলছে। করোনা ভাইরাস ট্রান্সফার কমিউনিটি পর্যায়ে চলে যাচ্ছে।

সুযোগে কাঁচামালের দাম আকাশচুম্ব্বী অসাধু ব্যবসায়ীরা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। নজরদারি ও সচেতনতা এই দুঃসময় মোকাবিলায় সহায়ক শক্তি।

এখন করোনা ভাইরাসের কমিউনিটি সংক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শুধু লকডাউন যথেষ্ট নয়। মহল্লায় মহল্লায় প্রতিটি ঘরে নজরদারি করা জরুরি। প্রতিটি কাউন্সিলরসহ গণ্যমান্য লোকজনদের কাজে লাগাতে হবে। বিভিন্ন বয়সের মানুষের সমন্বয়ে একটি সেল গঠন করে দেখতে হবে হোম কোয়ারেন্টাইন যথাযথ পালিত হচ্ছে কি না। নতুন আইন জারির প্রয়োজন হতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মোবাইল টিম গঠন করতে হবে । হাসপাতালে ইতিমধ্যে অনেক সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। কারো অবহেলাজনিত কারণে কোনো রোগীর যাতে মৃত্যু না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। অনেক যোদ্ধা চিকিত্সকের মৃত্যুর খবর আমাদের প্রতিদিন ভাবিয়ে তুলছে। পিপিইসহ তাদের সুরক্ষার দিকে ভাবতে হবে। তাদের বাসস্থান, খাবার ব্যবস্থা ও মানসিক অবস্থা ঠিক না থাকলে এ দুর্যোগ মোকাবিলা কঠিন হবে।

ঘরের মানুষগুলো বাইরে গিয়ে করোনা ভাইরাস ঘরে না নিয়ে আসে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাইরের বন্ধু, বাজারের ঠোংগা, ব্যাগ, সবজি, কাঁচামালের মধ্যে ঘরে করোনা ভাইরাস না ঢুকতে পারে সেদিকে নজর দিতে হবে। কমিউনিটি সংক্রমণ প্রতিরোধে আমরা সচেতন থাকব। ভয়াবহ এই যুদ্ধে আমাদের জয় হবেই।

n লেখক :প্রাবন্ধিক, কবি, উপকিপার,

জাতীয় জাদুঘর