‘নীলনকশা বাস্তবায়িত হলে এটা হবে কলঙ্কজনক নির্বাচন’

ক্ষমতাসীনরা ভোট কারচুপি করে জেতার পরিকল্পনা করেছে বলে অভিযোগ বাম গণতান্ত্রিক জোটের। ভোটগ্রহণের আগেরদিন গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করে জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। বরং সরকারের নীলনকশা বাস্তবায়নে তারা তত্পর রয়েছে। অর্থাত্ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সরকার, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন একাকার হয়ে নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের নীলনকশা বাস্তবায়ন করছে। এটা বাস্তবায়িত হলে তা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন, অন্যতম কলঙ্কজনক নির্বাচন হিসেবে চিহ্নিত হবে। এই নীলনকশা ঠেকাতে জনগণকে সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাম জোট।

রাজধানীর পুরানা পল্টনে সিপিবি কার্যালয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষে সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম বলেন, এবার ২০১৪ সালের মতো খালি মাঠে গোল করার সুযোগ না পেয়ে আওয়ামী লীগ সরকার প্রশাসনকে ব্যবহার করে সন্ত্রাস, হামলা, মামলা, হুমকি-ধমকি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়ন্ত্রিত ভোটে জেতার আয়োজন সম্পন্ন করেছে। এই নীলনকশা বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে সরকার আরও কর্তৃত্ববাদী, স্বৈরাচারী হয়ে উঠবে, পূর্ণ ফ্যাসিবাদী রূপে আবির্ভূত হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন দাবি করেছে- আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যদি তাই হয়, তাহলে যেসব গ্রেফতার, হামলা, মামলা হচ্ছে, তা কমিশনের হুকুমেই হচ্ছে! ভোট নিয়ে ইসি সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে বলেও মন্তব্য শাহ আলমের।

সিপিবি’র এই নেতা বলেন, সাধারণ মানুষ ভোটের দিনের কথা চিন্তা করে আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাচ্ছে। তার মধ্যে নির্বাচন কমিশন প্রকাশ্যে হাসপাতালগুলোকে জরুরি সেবার জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়ায় আশঙ্কা আরও বেড়েছে। তিনি বলেন, মানুষ মনে করেছিল- সেনা মোতায়েনের পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু সেনা মোতায়েনের পরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি বরং গ্রেফতার, হামলা অব্যাহত আছে। সংবাদ সম্মেলনে বাম জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের হামিদুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের ফিরোজ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।