হত্যার আগে ধর্ষণের আলামত, অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের আবদার গ্রামের একটি বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রী ও তার তিন সন্তানকে গলা কেটে হত্যার আগে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। মৃতদেহগুলো উদ্ধার ও সুরতহাল তৈরি করার সময় মা ও দুই মেয়ে অর্ধনগ্ন ছিল এবং প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে প্রবাসী রেজওয়ান হাসান কাজলের বাবা আবুল হোসেন বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার পিপিএম, জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা ও একাধিক টিম, ঢাকার ক্রাইম সিন ইউনিট ও সিআইডি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মানুষ যখন করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে শঙ্কিত, তখন এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড সবাইকে হতবাক করে দিয়েছে।

নিহতের প্রতিবেশী মো. সেলিম উদ্দিন জানান, তাদের সঙ্গে তার              সব সময়ই ওঠাবসা ছিল। তারা খুব আন্তরিক ছিলেন। ঐ এলাকায় ৫ শতক জমি কিনে বাড়ি তৈরি করে প্রায় ১৫ বছর যাবত্ তারা বসবাস করছেন, তাদের কেউ এমন নৃশংসভাবে খুন করবে এলাকায় কারো সঙ্গে এমন খারাপ কোনো সম্পর্ক দেখা যায়নি। প্রবাসী কাজলের ভাগিনা মেহেদী হাসান জানান, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে চার জনের মরদেহ তাদের নিজ জেলা ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মশাখালী ইউনিয়নের নেউকা গ্রামে দাফন করা হবে।

শ্রীপুর থানার এসআই মো. এখলাস ফরাজি জানান, আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে বুধবার রাতের কোনো এক সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবেই কাজলের ইন্দোনেশিয়ান বংশোদ্ভূত স্ত্রী, দুই মেয়ে ও শিশুপুত্রকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে এবং চার জনের দেহেই একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে তাদের হত্যার আগে মা-মেয়েকে ধর্ষণ করার আলামত পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘরের ভেতর থেকে রক্তমাখা একটি বঁটি, একটি চাকু ও রক্তমাখা কাপড়চোপড় উদ্ধার করা হয়েছে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল শেখ জানান, লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ, পিবিআই ও র্যাব কাজ করছে। ঐ পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান, কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা এখনো উদ্ঘাটন করা যায়নি। তবে ঘরে ডাকাতির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ঘরের আলমারিসহ অন্যান্য জিনিস সুরক্ষিত ছিল।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার জৈনাবাজার এলাকায় একটি দোতলা বাসা থেকে এক প্রবাসীর স্ত্রী-সন্তানসহ চার জনের বিবস্ত্র গলাকাটা লাশ উদ্বার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন কাজল মিয়ার স্ত্রী স্মৃতি আক্তার ওরফে ফাতেমা (৪৫), বড়ো মেয়ে নুরা আক্তার (১৬), ছোট মেয়ে শাওরিন আক্তার (১২) এবং সবার ছোটো ছেলে ফাদিল আল সাদ (৭)।