শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জন্মদিনের দিন বিদায় নিলেন তাঁরই শিষ্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর। পঞ্চাশ দশকের খ্যাতিমান শিল্পীদের অন্যতম চিত্রশিল্পী বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগ চালু হয়েছিল যার হাত দিয়ে, সেই চিত্রশিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আর নেই। গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে নিজের বাসায় এই শিল্পী মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। একুশে পদকজয়ী এই শিল্পীর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
শিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীর ৬০ বছরের বেশি সময় চিত্রকলা চর্চা করেছেন। তার উদ্যোগেই জেলা উপজেলা পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ চারুকলা প্রদর্শনীর আয়োজন জনপ্রিয় হয়েছিল। সৈয়দ জাহাঙ্গীরের জন্ম ১৯৩৫ সালে সাতক্ষীরা জেলায়। চারুকলা থেকে পাস করে দীর্ঘদিন তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখেন একজন সার্বক্ষণিক চিত্রকর হিসেবে। ১৯৫৮ সালে ফোর্ড ফাউন্ডেশনের ফেলোশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর বিভিন্ন রাজ্য ঘুরে ঘুরে আমেরিকান শিল্পধারার সঙ্গে সৈয়দ জাহাঙ্গীরের পরিচয় হয়। পাকিস্তান আমলে টেলিভিশনে খবর পড়তেন সৈয়দ জাহাঙ্গীর। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি আটকা পড়েন পাকিস্তানে। তাকে টেলিভিশন থেকে বাদ দেওয়া হয়। সরকার ১৯৮৫ সালে সৈয়দ জাহাঙ্গীরকে একুশে পদকে ভূষিত করে। ১৯৯২ সালে তিনি পান চারুশিল্পী সংসদের বিশেষ সম্মাননা। এছাড়া মাইকেল মধুসূদন পুরস্কার, শশীভূষণ সম্মাননা, বার্জার পেইন্টস, হামিদুর রহমান পুরস্কারসহ বহু পুরস্কার পেয়েছেন এই শিল্পী।
গতকাল শনিবার বিকালে সৈয়দ জাহাঙ্গীরের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। সেখানে চারুশিল্পী-শিক্ষক ও সর্বস্তরের মানুষ তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানায়। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে সাতক্ষীরায় গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হবে।