রংপুরের পীরগঞ্জে ত্রাণের (জিআর) ৫১ মেট্রিকটন চাল ও নগদ ৯ লাখ ২০ হাজার টাকার বিষয়ে দৈনিক ইত্তেফাকে গত বৃহস্পতিবার খবর প্রকাশের পর জেলা প্রশাসক দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
কমিটির সদস্যরা হলেন—স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ডিডিএলজি সৈয়দ ফরহাদ হোসেন ও জেলা ত্রাণ পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ টি এম আকতারুজ্জামান। গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্তে জন্য দুই সদস্যর কমিটিকে দায়িত্ব দেন। এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক আসিব আহসান মোবাইল ফোনে জানান, বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যদের ইউএনও ত্রাণ বিতরণের কথা জানিয়েছেন। তবুও বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রংপুর জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব রেজাউল আহসান মডেল মোবাইল ফোনে জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার পিআইও মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, মার্চ মাসের ২৪, ২৫, ৩১ ও চলতি মাসের ১, ৩, ৫, ১১, ১৪, ১৫ তারিখে ৯ ধাপে উপজেলায় ত্রাণ হিসেবে ২৫১ টন চাল ও নগদ ৯ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রতিটি ইউনিয়নে প্রথম পর্যায়ে ১২৫ জন, দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০০ জন, তৃতীয় পর্যায়ে ৩০০ জনসহ চতুর্থ ধাপে ৬০০ জনের (প্রক্রিয়াধীন) প্রত্যেককে ১০ কেজি করে ইউনিয়ন প্রতি সোয়া ১২ টন হিসেবে ১৫টি ইউনিয়নে ১৮৩.৭৫ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এছাড়াও পৌরসভায় প্রথম পর্যায়ে ১২৫ জন, দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩০০ জন, তৃতীয় পর্যায়ে ৫০০ জন ও চতুর্থ পর্যায়ে ৭০০ জনের (প্রক্রিয়াধীন) প্রত্যেককে ১০ কেজি করে পৌরসভায় সোয়া ১৬ টন বরাদ্দ দেওয়া হয়। মেয়র তাজিমুল ইসলাম শামিম পিআইওর তথ্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ২০০ টন বরাদ্দের তথ্য পেয়ে অবশিষ্ট চাল ও টাকার বিভাজন সম্পর্কে জানতে চাইলে পিআইও জানান, অবশিষ্ট চাল ও নগদ টাকা ইউএনও টি এম এ মমিন, উপজেলা চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মন্ডল, ভাইস চেয়ারম্যান শফিউর রহমান মন্ডল বিতরণ করেছেন। পিআইওর দেওয়া তথ্য মতে, ৫১ টন চাল এবং ৯ লাখ ২০ হাজার টাকার কোনো হদিস মেলেনি।