গতকাল শুক্রবার সাভারে রানা প্লাজা ভবন ধসের সাত বছর পূর্তি অনেকটা নীরবেই পালিত হয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে শ্রমিক সংগঠনগুলো বর্ষপূর্তি পালন স্থগিত করায় ঘরে বসেই নিহত শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্বজন ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসমাগমের ঝুঁকি এড়াতে সকাল থেকে পৌর এলাকায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল, দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
এ বছর পূর্বের মতো কোনো আনুষ্ঠানিকতা না থাকায় মানুষের ভিড় ছিল না রানা প্লাজা চত্বরে। তবে স্থানীয় প্রশাসন, শ্রমিক সংগঠন এবং নিহতদের স্বজনদের পক্ষ থেকে পৃথক ফুলের তোড়া দিয়ে রানা প্লাজার শহিদ বেদিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন ঘরোয়াভাবে স্বল্প পরিসরে নিহতদের স্মরণে প্রতীকী কর্মসূচি পালন করেছে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার বলেন, সাত বছর পার হলেও রানা প্লাজা ধসের পেছনে প্রকৃত দায়ীদের এখনো বিচার হয়নি। আহত শ্রমিকেরা নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে করোনা ভাইরাসের এ পরিস্থিতিতে আরো বেশি কষ্টের মধ্যে পড়েছেন।
সাত বছরেও সোহেল রানাসহ দোষীদের শাস্তি না হওয়াকে বিরাট বিপদের সংকেত বলে অভিহিত করে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বলেন, সারা দুনিয়ার ইতিহাসে এত বড়ো ঘটনায় যেখানে ১ হাজার ১৭৫ জন প্রাণ হারিয়েছে সেখানে এখনো দোষীরা শাস্তি পায়নি। শ্রমিক নেতারা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাসহ অন্য দোষীদের দ্রুত শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, দেশের পোশাক খাতের ইতিহাসে মর্মান্তিক এক ট্র্যাজেডির নাম রানা প্লাজা। ২০১৩ সালের এই দিনে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত ৯ তলা রানা প্লাজা ভবন ধসে সহস্রাধিক শ্রমিক নিহত হন। আহত হন প্রায় ৩ হাজার। এদের মধ্যে অনেকেই পঙ্গু হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।