গাইবান্ধা প্রতিনিধি
ত্রাণের দাবিতে লকডাউন ভেঙে শুক্রবার গাইবান্ধা নতুন জেলখানার সামনে অবস্থান নিয়ে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন কর্মহীন দিনমজুররা। বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এই অবরোধ কর্মসূচিতে সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দুই শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। এ সময় সড়কের দুই পাশে জরুরি পরিবহন সেবায় নিয়োজিত ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন আটকা পড়ে। পরে গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রসুন কুমার চক্রবর্তী গিয়ে ত্রাণ প্রদানের আশ্বাস দিলে ১২টার পর এই অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
অবরোধে অংশ নেওয়া কর্মহীন দিনমজুররা জানান, গত ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি শুরুর হওয়ার পর থেকেই কারো কাছে গেলে করোনার ভয়ে কেউ কোনো কাজ দেয় না। এছাড়া কোনো যানবাহন ( রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইক) নিয়ে রাস্তায় বের হলেই টায়ারের হাওয়া ছেড়ে দেওয়া হয়। মারধর করা হয়। ফলে এক মাস ধরে খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। অনেকেই ঋণ করে সংসার চালাচ্ছেন। এ অবস্থায় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেও এখন পর্যন্ত কিছুই পায়নি।
ইউএনও প্রসুন কুমার চক্রবর্তী বলেন, কেউ যাতে কষ্ট না পায়, এজন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ত্রাণ সরবরাহ করা হচ্ছে। এ সময় কারো ঘরে খাবার না থাকলে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনকে জানালে আমরা তাদের ঘরে খাবার পৌঁছে দেব। তিনি আরো বলেন, তারা আমাদের সঙ্গে আগে যোগাযোগ করেনি। এরপরও তাদেরকে একটি তালিকা করে জমা দিতে বলা হয়েছে। তারা যত দ্রুত তালিকা জমা দেবেন যাচাই-বাছাই করে তত দ্রুত তাদেরকে ত্রাণ দেওয়া হবে।
বরিশালে বিক্ষোভ
বরিশাল অফিস জানায়, বরিশাল নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডের শতাধিক মানুষ ত্রাণের দাবিতে সড়কে অবস্থান নিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো বিক্ষোভ করেছেন। পুলিশ ও প্রশাসনের ত্রাণ দেওয়ার আশ্বাসে ঘণ্টাখানেক পর বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে বাড়ি ফিরে যান তারা। এ ব্যাপারে স্থানীয় ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমির হোসেন বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, সেখানে ১ হাজার ৯০০ পরিবারকে ইতিমধ্যে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। এরপরও একটি চক্র অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য কিছু লোককে উসকানি দিয়ে আন্দোলন করাচ্ছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কাউনিয়ার সাধুর বটতলা এলাকার লাকুটিয়া সড়কে অবস্থান নেন ত্রাণবঞ্চিত স্থানীয় শতাধিক বাসিন্দা। তারা জানান, এর আগে ত্রাণের দাবিতে তারা বিক্ষোভ করেছিলেন। তখন ত্রাণ পাওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরও তারা এখন পর্যন্ত ত্রাণ পাননি।