খাগড়াছড়ির সঙ্গে সরাসরি সড়কপথে যুক্ত হচ্ছে রাঙ্গামাটি

রাজধানী ঢাকা থেকে সবুজ পাহাড়ে ঘেরা বনবনানীর শহর রাঙ্গামাটি।  সড়কপথে এই দুই শহরে যাতায়াতে সাধারণত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা সময় লাগে। যানজটসহ বিভিন্ন কারণে কখনো কখনো আরও বেশি সময় রাস্তায় বসেই পার করতে হয়। এর মূল কারণ ঢাকা ও রাঙ্গামাটির মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকা। ফলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে অতিরিক্ত ৭০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রাঙ্গামাটি যেতে একদিকে যেমন বাড়তি সময় ও অর্থনাশ হতো, পাশাপাশি অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির উদ্ভব হলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো।

পার্বত্য জনপদে বসবাসকারী প্রায় ১০ লাখ পাহাড়ি ও বাঙালির পাশাপাশি রাঙ্গামাটি ভ্রমণে ইচ্ছুক পর্যটকরা দীর্ঘদিন ধরে এই ভোগান্তির অবসান চেয়ে আসছিলেন। এই প্রত্যাশা অনুধাবন করতে পেরে রাজধানীর সঙ্গে সড়কপথে রাঙ্গামাটির যোগাযোগ আরও দ্রুত ও সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৯ ইসিবির তত্ত্বাবধানে খাগড়াছড়ির জালিয়াপাড়া থেকে রাঙ্গামাটির মহালছড়ি পর্যন্ত দুর্গম এলাকায় প্রায় ২২ কিলোমিটার মহাসড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে জালিয়াপাড়া থেকে সিন্দুকছড়ি পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজুরী চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ঢাকা থেকে যারা রাঙ্গামাটি যায় তাদের চট্টগ্রাম ঘুরে যাওয়ার কারণে তিন ঘণ্টা বা কখনো কখনো তার চেয়েও বেশি সময় নষ্ট হয়। আশাবাদ ব্যক্ত করে কংজুরী চৌধুরী বলেন, রাস্তাটি হয়ে গেলে পক্ষীমুড়া নামক স্থানে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। হর্টিকালচার পার্ক থেকে আলুটিলা পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার ক্যাবল কারের ব্যবস্থা হবে। পর্যটন শিল্পের বিকাশ হলে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এ জন্য খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ থেকে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে যার আওতায় আমরা মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে সমঝোতা স্মারক করব।

জালিয়াপাড়া থেকে মহালছড়ি পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক কর্নেল রোমিও নওরীন খান ইত্তেফাককে বলেন, নির্বাচনের পর নতুন সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে সড়কের বাকি অংশের নির্মাণ কাজ শুরু হবে।