পিরোজপুর অফিস ও স্বরূপকাঠি সংবাদদাতা
করোনা পরিস্থিতিতে এ বছর জমেনি পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদের (স্বরূপকাঠি) মিয়ারহাট বন্দর সংলগ্ন কালিবাড়ি খালে তরমুজের ভাসমান হাট। বিগত বছরগুলোতে এ ভাসমান হাট থাকত জমজমাট। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় উত্পাদিত রসাল সুস্বাদু মৌসুমী ফল তরমুজ বিক্রির এটি অন্যতম মোকাম। সপ্তাহে সোম ও বৃহস্পতিবার বসে এ ভাসমান হাট। বিগত দিনে ভাসমান এ হাটে তরমুজ ভর্তি ট্রলারে ট্রলারে সয়লাব হয়ে যেত। জমজমাট থাকত ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কেনাবেচায়। কিন্তু এ বছর এ ভাসমান হাটে হাতেগোনা কয়েকটি তরমুজ ভর্তি ট্রলার আসে। এ মোকাম থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে তরমুজ চালান দেওয়া হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী ছাড়াও ঢাকা, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এখান থেকে তরমুজ কিনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে বিক্রি করত।
করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দুরাগত ব্যবসায়ীরা আসছেন না। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলে এ বছর হাজার হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষাবাদ হয়েছে। পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার নলুয়াবাগি গ্রামের চাষি মো. মঞ্জুর হাসান ইত্তেফাককে জানান, দক্ষিণাঞ্চলে এবার তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে। তবে করোনার প্রভাবের কারণে খেতে আসতে পাইকাররা বাধার মুখে পড়ায় কম দামে তরমুজ বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে চাষিরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন। মিয়ারহাট বন্দরের আড়তদার মো. সেলিম জানান, বিগত বছরে মিয়ারহাটের ভাসমান দুহাটে প্রায় কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হলে বর্তমানে তা চার ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে। বিগত দিনে এখানকার এক শ্রেণির ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ভাসমান এ হাট থেকে তরমুজ কিনে স্বরূপকাঠিসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারসহ গাঁওগ্রামে ভ্যানে, ট্রলারে নিয়ে বিক্রি করে সংসার চালাত। কিন্তু করোনার পরিস্থিতিতে ঐ সকল ব্যবসায়ীরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন।