স্ত্রী এলাকাবাসীর সহায়তা চাইলেন
স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
২৫ দিন চিকিত্সা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন বগুড়ার প্রথম করোনা রোগী শাহ্ আলম (৫০)। এর আগে করোনা রোগী সন্দেহে তাকে বগুড়ার মহাস্থানে ট্রাক থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে চিকিত্সা শেষে সস্ত্রীক গত শুক্রবার রংপুরে নিজের বাড়ি ফিরে গেছেন তিনি।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এটিএম নুরুজ্জামান সঞ্চয় ও আবাসিক চিকিত্সক ডা. শফিক আমিন কাজল শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে শাহ্ আলম ও তার স্ত্রী সাজেদা বেগমের হাতে ফুল দিয়ে তাদের বিদায় জানান। এ সময় এই দম্পতি উন্নতমানের চিকিত্সাসেবা প্রদান করায় মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের চিকিত্সক এবং নার্সদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
হাসপাতালের চিকিত্সকরা জানান, পরপর তিনটি পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ আসায় শাহ্ আলমকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তবে যেহেতু এই আইসোলেশন ইউনিটে বর্তমানে করোনা পজিটিভ সাত জন রোগী রয়েছেন, সে কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইড লাইন অনুযায়ী শাহ্ আলম এবং তার স্ত্রী সাজেদা বেগমকে বাড়ি ফিরে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।
বাড়ি যাওয়ার সময় শাহ্ আলমের স্ত্রী সাজেদা বেগম নিজ এলাকার লোকজনদের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, আমার স্বামী এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। আমি তাকে নিয়ে বাড়ি ফিরছি। বাড়ি ফেরার পর এলাকার লোকজন আমাদের ওপর যেন মানসিক কোনো নির্যাতন না করে—এটাই তাদের প্রতি আমার অনুরোধ।
রংপুরের ধাপ এলাকার বাসিন্দা শাহ্ আলম গত ২৮ মার্চ রাতে ঢাকা থেকে ট্রাকে করে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। জ্বরসহ শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে ২৯ মার্চ ভোরে তাকে বগুড়ার মহাস্থানগড় এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়। এরপর স্থানীয় এক সাংবাদিক পুলিশের সহযোগিতায় তাকে রিকশাভ্যানে তুলে প্রথমে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে সেখান থেকে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি শাহ্ আলম নিজেকে হূদরোগী হিসেবে পরিচয় দিলে কর্তৃপক্ষ তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করান। কিন্তু তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে পরদিন ৩০ মার্চ তাকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।