নারায়ণগঞ্জে নির্দেশনা অমান্য বাজারে উপচে পড়া ভিড়

হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ

করোনার হটস্পট জেলা নারায়ণগঞ্জে লকডাউনের ১৮তম দিনেও সব কিছু অনেকটা স্বাভাবিক নিয়মেই চলছে। বিভিন্ন মার্কেট, দোকানপাট ও সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকলেও মানুষকে ঘরে রাখা যাচ্ছে না এবং সামাজিক দূরত্ব মানছেন না অনেকেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকলেও নানা অজুহাতে লকডাউন অমান্য করে পথেঘাটে মানুষ অবাধে চলাচল করছে। খাদ্যপণ্য পরিবহনের পাশাপাশি ছোটো বড়ো বিভিন্ন ধরনের যাত্রীবাহী যানবাহনও চলছে পুরোদমে। রমজান মাসের প্রথম দিন থেকেই নগরীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ও পাইকারি পণ্যের বাজারগুলোতে লক্ষ্য করা যায় দারুণ ভিড়।

 দ্বিগুবাবুর বাজার ও কালিরবাজারসহ সব খানেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। জেলা প্রশাসন এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ কমিটি সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে মাইকিংসহ নানাভাবে মানুষকে সতর্ক করলেও কেউ তা মানছে না। বেশির ভাগ মানুষের মধ্যেই নির্দেশনা মেনে চলার ব্যাপারে অনীহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

জেলা প্রশাসন থেকে বাজারগুলোতে বিক্রেতাদের যে পরিমাণ দূরত্ব বজায় রেখে বেচাকেনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল কেউই সেটা মেনে চলছেন না। প্রতিটি দোকানেই ক্রেতাদের জটলা ও ভিড় লেগেই থাকছে। এসব কারণে নারায়ণগঞ্জে করোনা ভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কর্মকর্তা এবং জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে জেলার পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ অবনতি ঘটবে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তিনি সর্বস্তরের মানুষকে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার আহ্বান জানান।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরো ৪১ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে দুই জনের। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ জনে এবং আক্রান্ত ৬২৫ জন। তবে চিকিত্সা নিয়ে সুস্থও হয়েছেন ২৫ জন। গত চব্বিশ ঘণ্টায় বিভিন্ন সেন্টারে ১১৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪১ জনেরই করোনা পজিটিভ বলে শনাক্ত হয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১ হাজার ৮৬৭ জনের।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে সিটি করপোরেশনের দুই অঞ্চল (বন্দর ছাড়া) করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ২১ জন ও আক্রান্ত ৪২২ জন। অন্য দিকে সদর উপজেলায় মারা গেছেন ৯ জন ও আক্রান্ত ১৩৩। বন্দর উপজেলায় সিটি করপোরেশনের ৯টি ওয়ার্ডে মৃত্যুর সংখ্যা পাঁচ ও আক্রান্তের সংখ্যা ২৯ এবং পাঁচটি ইউনিয়নে মৃত্যু এক ও আক্রান্তের সংখ্যা ৯। এছাড়া আড়াইহাজারে আক্রান্ত ১২, সোনারগাঁয়ে আক্রান্ত ১১ ও মারা গেছেন দুই জন এবং রূপগঞ্জে মারা গেছেন এক জন ও ৯ জন আক্রান্ত। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে এই পর্যন্ত জেলায় মোট ১ হাজার ৮৬৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১১৩ জনের। জেলায় এই পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত থেকে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ২৫ জন। তার মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকার ১৬ জন, সদর উপজেলার সাত জন, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারের এক জন করে।