করোনা উপসর্গ নিয়ে সাতক্ষীরা, খুলনা, মৌলভীবাজার, ভোলা ও নোয়াখালীর সেনবাগে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশে এই নিয়ে করোনা উপসর্গসহ অন্তত ১৭৯ জনের মৃত্যু ঘটল।
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে জ্বর সর্দি কাশিসহ করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া এক ব্যক্তি শনিবার ভোরে মারা গেছেন। মৃত হারুন আর রশীদ (৪০) কালীগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়ার সাবেদ সরদারের ছেলে।
ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গাজী শওকত হোসেন বলেন, পাঁচ দিন আগে ঢাকা থেকে অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি আসে হারুন। তার জ্বর কাশিকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হলে শুক্রবার তাকে প্রথমে শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শনিবার সকাল ৬টার দিকে মারা যান তিনি। সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়েত জানান, মৃত ব্যক্তির নিকটাত্মীয়দের নমুনা সংগ্রহ করে পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে। কালিগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক রাসেল জানান, মৃত হারুনের বাড়িসহ ছয়টি বাড়িতে লাল পতাকা টাঙিয়ে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।
খুলনা অফিস জানায়, খুলনায় করোনা উপসর্গ নিয়ে ফাতেমা নামে ১৬ মাস বয়সি এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রচুর পাতলা পায়খানা হওয়ায় শিশুটিকে শুক্রবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। শিশুটির গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায়। হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (মেডিসিন) ও করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডের মুখপাত্র ডা. শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, করোনা পরীক্ষার জন্য মৃত শিশুর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যদের কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ।
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, মৌলভীবাজারে করোনা উপসর্গ নিয়ে ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আইসোলেশনে থাকা ৬১ বছর বয়সি এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। শ্রীমঙ্গলের আশিদ্রোন ইউনিয়নের রামনগর মনিপুরিপাড়া থেকে শুক্রবার রাতে তিনি ঐ হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি হন। শনিবার সকালে তিনি মারা যান। সিভিল সার্জন ডা. তাওহীদ আহমদ জানান, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কী-না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য মৃত নারীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন তার বাড়ি লকডাউন করতে পারে।
ভোলা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি জানান, ভোলায় শ্বাসকষ্ট নিয়ে এক বৃদ্ধ জেলার ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়ার দুই দিন পর গত শনিবার মারা গেছেন। জেলা সিভিল সার্জন ডা. রতন কুমার ঢালী জানান, গত ২৩ এপ্রিল ঐ বৃদ্ধকে করোনা সন্দেহে আইসোলেশনে রাখার পর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু তার রিপোর্ট এখনো আসেনি।
সেনবাগে মাটিকাটা শ্রমিকের মৃত্যু
লাশ ফেলে পালাল সঙ্গীরা
সেনবাগ (নোয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ৩ নম্বর ডমুরুয়া ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের ভূঁইয়া বাড়িতে করোনার উপসর্গ নিয়ে এক মাটিকাটা শ্রমিকের (৩২) মৃত্যু হয়েছে। শনিবার তার মৃত্যুর পর সঙ্গী শ্রমিকরা করোনা আতঙ্কে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে সেনবাগ থানা পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন এসে লাশ উদ্ধার করে। করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম পাঠানো হয়েছে। গতকাল দুপুরে বেওয়ারিশ হিসাবে ভূঁইয়া বাড়ির কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়েছে। মৃত শ্রমিকের বাড়ি হাতিয়া উপজেলায়।