দোররা বা চাবুক মারার শাস্তির প্রথা বিলুপ্ত করতে যাচ্ছে সৌদি আরব। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কাছে আসা আইনি নথিপত্র থেকে পাওয়া তথ্যে এ কথা জানা গেছে। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের সর্বোচ্চ আদালতের এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চাবুক মারার বদলে কারাদণ্ড বা জরিমানার মতো শাস্তি দেওয়া হবে। এটি সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উদ্যোগে দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি সংস্কারের অংশ হিসেবে এই পরিবর্তন করতে যাচ্ছে তারা। সাংবাদিক জামাল খাসোগজিকে হত্যাকাণ্ড এবং দেশটিতে ভিন্ন মতাবলম্বীদের কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় সাম্প্রতিককালে সৌদি আরব ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ মানবাধিকার পরিস্থিতি যেসব দেশে, সৌদি আরব তাদের মধ্যে একটি। সেখানে সাধারণ মানুষের বাক স্বাধীনতা খুবই সীমিত এবং সরকারের সমালোচকদের নির্বিচারে গ্রেফতার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, চাবুক মারার শাস্তির বিষয়টি ২০১৫ সালে শেষবার বিশ্বব্যাপী আলোচনা তৈরি করেছিল। যখন ব্লগার রাইফ বাদাউইকে সাইবার অপরাধ এবং ইসলাম অবমাননার দায়ে জনসম্মুখে চাবুক মারার শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। রাইফ বাদাউইকে ১০ বছর জেল এবং ১ হাজার চাবুক মারার শাস্তি দেওয়া হয়। কারাদণ্ড চলাকালে প্রতি সপ্তাহে দফায় দফায় ঐ ১ হাজার চাবুক মারার কথা ছিল। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে তাকে ৫০ বার চাবুক মারা হয়। কিন্তু ঐ ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর সৌদি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাইফ বাদাউইর চাবুক মারার শাস্তি স্থগিত করা হয়। বিবিসির আরব সম্পর্কবিষয়ক সম্পাদক সেবাস্তিয়ান উশারের মতে, ঐ ঘটনা সৌদি সরকারের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। আর এই বিষয়টি মাথায় রেখেই চাবুক মারার প্রথা নিষিদ্ধ করতে চাইছে দেশটি।