মহামারি করোনা ভাইরাস দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৯ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে ১৪০ জনের মৃত্যু হলো। আক্রান্ত হিসেবে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরো ৩০৯ জন। এতে দেশে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে ৪ হাজার ৯৯৮। গতকাল শনিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, করোনা ভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৪২২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩৩৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৩ হাজার ১১৩টি। নতুন যে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে তার মধ্যে আরো ৩০৯ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, নতুন করে যে ৯ জন মারা গেছেন, এদের মধ্যে পাঁচ জন নারী ও চার জন পুরুষ। বয়সের দিক থেকে সাত জনই সত্তরোর্ধ্ব, বাকি দুজনের মধ্যে একজন পঞ্চাশোর্ধ্ব এবং একজন ষাটোর্ধ্ব। তিন জন ঢাকার এবং ছয় জন ঢাকার বাইরের বাসিন্দা। ঢাকার বাইরে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে নারায়ণগঞ্জ, জয়পুরহাট, টাঙ্গাইল, মাদারীপুর ও ময়মনসিংহে। তিনি বলেন, আজকের গণমাধ্যমে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে বলতে চাই, বাংলাদেশে ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতাল ও আইসোলেশন ইউনিটগুলোতে অক্সিজেন সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই। সারাদেশের সব উপজেলায় মোট ১০ হাজার ৩৯৩টি অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে। মেডিক্যাল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতাল বাদে আটটি বিভাগে মোট অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে ১৩ হাজার ৭৪৫টি।
করোনা চিকিত্সায় নিয়োজিত দুই প্রতিষ্ঠানের চিত্র তুলে ধরে ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালেও অক্সিজেন সিলিন্ডারের কোনো ঘাটতি বা সংকট নেই। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৪৫০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে। যদিও এখানে কেন্দ্রীয়ভাবে অক্সিজেন সরবরাহ নেই। কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালেও ১২০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং ১২টি মিনি ফোল্ড অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা আছে।
অক্সিজেন সরবরাহের আরো চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এ অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, অনেক মেডিক্যাল কলেজ এবং বিশেষায়িত হাসপাতালে কেন্দ্রীয়ভাবে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা আছে। কোভিড-১৯ উপলক্ষে আরো ৩ হাজার ৫০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার কেনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই অক্সিজেন সিলিন্ডারগুলো দেশে এসে পৌঁছাবে। তাছাড়া ব্যবহূত অক্সিজেন সিলিন্ডারগুলো পুনরায় ভর্তি করার জন্য সর্বাত্মকভাবে দ্রুততম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কাজেই যে তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এটা অসম্পূর্ণ ও পুরোনো তথ্য। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকার এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয় বুলেটিনে। ডা. নাসিমা সুলতানা ঘরে থাকার এই সময়ে মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে বই পড়া, বাগান করা এবং শারীরিক ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন। তিনি রোজার ইফতারে পানিসহ তরল খাবার বেশি করে গ্রহণেরও পরামর্শ দেন।