আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আওয়ামী লীগের জয়ের আভাস

বাংলাদেশে আজ রবিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। এই নির্বাচনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পাশাপাশি নজর রাখছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আবারও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের ক্ষমতায় আসার ব্যাপারে জোরালো আভাস দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদে উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরা হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাসবিরোধী নীতিরও প্রশংসা করা হয়েছে। যদিও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাক স্বাধীনতা সীমিতকরণ ও বিরোধী দলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও উঠে এসেছে এসব প্রতিবেদনে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে গত এক দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্রমশ বেড়েছে। আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে দেশের বিভিন্ন কোম্পানিও। ভিয়েলটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ডেভিড হাসানাতের বরাত দিয়ে ওই সংবাদমাধ্যম বলেছে, দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতিতে সাহায্য করছে। অর্থনীতির উচ্চ প্রবৃদ্ধি ও আর্থিক খাতে চাঙাভাব তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের ক্ষমতায় আসাকে বেগবান করতে পারে। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভালো থাকলেও, বিরোধীদের দমন-পীড়নের অভিযোগে সরকার সমালোচিত হচ্ছে।

দ্য জাপান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগের দিন শনিবার বাংলাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এই নির্বাচনে শেখ হাসিনা রেকর্ড চতুর্থবার জয়ের আশা করছেন। যদিও বিরোধীরা সরকারের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলেছে।

মার্কিন সাময়িকী টাইমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবারের নির্বাচনে চতুর্থবার বিজয়ী হওয়ার আশা করছেন শেখ হাসিনা। তিনি উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও সমালোচকরা বলছেন, ইতিমধ্যে ভঙ্কুর গণতন্ত্রের বিনিময়ে অর্থনৈতিক সাফল্য এসেছে।

ভারতের প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক নিবন্ধে শেখ হাসিনার সরকারের জয়ের ব্যাপারে জোরালো সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে। ‘আগামীকালের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে শেখ হাসিনার জয়ে ভারতের কেন আনন্দিত হওয়া উচিত’ শিরোনামের নিবন্ধে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। বাংলাদেশকে ভারতের জনগণ এখন সবচেয়ে আস্থাভাজন বন্ধুদেশ মনে করে। এটা হয়েছে শেখ হাসিনার আমলেই। তাই এবারের নির্বাচনে শেখ হাসিনার জয়ে ভারত আনন্দিত হতেই পারে।