আবুল কাসেম ভূঁইয়া
প্রতি বছর বর্ষা এলেই চট্টগ্রামবাসীকে জলাবদ্ধতা সমস্যায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অপরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মাণ, ড্রেন, নালা, খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবং অবৈধ দখলে চলে যাওয়ায় শহরের পানি স্বাভাবিকভাবে সরতে না পারায় জলাবদ্ধতা সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে। প্রতি বর্ষায় চট্টগ্রামে সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, বাজার, অফিস আদালত পানিতে তলিয়ে যায়। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত বাস্তবধর্মী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যদিও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যেগুলো এখনো পর্যন্ত চলমান রয়েছে। চট্টগ্রাম শহরের অধিকাংশ খাল, নালা, ড্রেন খনন, সংস্কার, সম্প্রসারণ এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে। বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। খাল, নালা, ড্রেন সংস্কারের পাশাপাশি ব্রিজ এবং কালভার্টের কাজও সমানতালে চলছে। এসব কাজ যে গতিতে চলার কথা সেভাবে চলছে না। যে কারণে অধিকাংশ কাজ শেষ হতে অনেক সময় লাগবে। বর্ষা চলে আসছে।
বর্ষা এসে গেলে এসব উন্নয়নমূলক কাজ বৃষ্টি এবং পানির কারণে স্বাভাবিকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। বর্তমানে অধিকাংশ খাল, নালা, ড্রেনের এবং ব্রিজ, কালভার্টের কাজের জন্য পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। বর্ষা এলে বৃষ্টির পানি সরার পথ না পেলে চট্টগ্রাম শহরের অধিকাংশ এলাকা আগের তুলনায় আরো বেশি প্লাবিত করে ফেলবে। এনিয়ে চট্টগ্রামবাসী বড়ো চিন্তায় আছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম শহরের অধিকাংশ এলাকায় ড্রেন, খাল, নালার কাজ চলছে। ড্রেন, নালা, খালের মাটি রাস্তার পাশে জমিয়ে রাখার কারণে জনসাধারণের চলাচলে ভীষণ অসুবিধা হচ্ছে। বর্ষা এলে এসব মাটিগুলো রাস্তায় এসে অথবা ড্রেন, খাল, নালায় এসে আরো সমস্যার সৃষ্টি করবে। তাই এসব মাসে ড্রেন, নালা, খালগুলোর কাজ সম্পূর্ণ সমাপ্ত করা সম্ভব হবে কি? যদি না হয় তবে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। চট্টগ্রামবাসীর প্রশ্ন এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটুকু সজাগ রয়েছেন।
চট্টগ্রামবাসীকে জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা করতে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। না হলে চট্টগ্রামবাসীর জন্য বড়ো দুঃসংবাদ অপেক্ষা করছে। অপর দিকে চট্টগ্রাম ওয়াসা নতুন পানির লাইন স্থাপনের জন্য পুরো চট্টগ্রাম শহরের রাস্তাঘাট খনন করে সমস্যার সৃষ্টি করেছে। অত্যন্ত ধীর গতিতে ওয়াসার পানির লাইনের কাজ চলার কারণে দুর্ভোগ আরো বাড়ছে। বর্ষার সময় ওয়াসার কাজ চলমান থাকলে দুর্ভোগ আরো বৃদ্ধি পাবে। কারণ বড়ো বড়ো রাস্তার মধ্যে গর্ত খননের কারণে যানবাহন চলাচলে ভীষণ অসুবিধা হচ্ছে। বর্ষায় বৃষ্টির পানিতে এসব গর্ত ভরে গেলে যানবাহন চালকরা গাড়ি নিয়ে গর্তে পড়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হবে। আগেও ওয়াসার গর্তে গাড়ি পড়ে অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাছাড়া ওয়াসার গর্ত করার কারণে পুরো রাস্তা জুড়ে কাদায় ভরে থাকে। যার ফলে পথচারীদের হাঁটা-চলায় ভীষণ অসুবিধা হয়।
বিশেষজ্ঞ মহল অভিমত প্রকাশ করে বলে, বিভিন্ন বিভাগের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সমন্বয় না থাকায় জনসাধারণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অপরদিকে চট্টগ্রাম শহরের পাহাড়গুলো অবৈধভাবে কেটে ফেলার কারণে সমস্যা আরো মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। পাহাড়ের বালু-মাটি ড্রেন, নালা, খালে এসে ভরাট করে ফেলার কারণে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করছে। পাহাড় কাটা নিষিদ্ধ থাকলেও তা বন্ধ করা যাচ্ছে না। চট্টগ্রাম শহরের অধিকাংশ পুকুর, দিঘি, জলাশয় ভরাট করে ফেলার কারণে বৃষ্টির পানি ধারণ করার স্থানগুলোর সংকটের কারণে সমস্যা মারাত্মক হচ্ছে। পুকুর, জলাশয়, দিঘি ভরাট নিষিদ্ধ থাকলেও একশ্রেণির লোক অবৈধভাবে এসব স্থানগুলো ভরাট করে ফেলছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণে এরা প্রশ্রয় পেয়ে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম শহরে আগের মতো পুকুর, জলাশয়, দিঘি থাকত তা হলে চট্টগ্রামবাসীর জলাবদ্ধতা সমস্যা অনেক লাঘব হত। চট্টগ্রামবাসীকে বর্ষায় জলাবদ্ধতা সমস্যার হাত থেকে রক্ষা করতে চাই কার্যকর উদ্যোগ। চট্টগ্রামবাসী জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি চায়।
n লেখক :বীমা কর্মকর্তা