ফেসবুকে খাবারের ছবি নয়, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই

তাসনিমুল হাসান প্রান্ত

সারাদেশে যখন ভয়াবহ করোনার থাবা পড়েছে, গৃহবন্দি সবাই, খাবারের জন্য সমাজের অসহায় মানুষ হাহাকার করছে, কখন ত্রাণ নিয়ে কেউ আসবে তাদের সাহায্য করার জন্য। শুকনা চিড়া মুড়ি খেয়ে দিনের পর দিন পার করছে তারা। আর আপনি সারাদেশ অঘোষিত লকডাউনে থাকায়, রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকায় বাসায় নতুন রেসিপি শিখছেন বা রান্না করে ‘ইয়ামি ওয়াউ’ ক্যাপশন লিখে বিভিন্ন ধরনের খবারের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন। সত্যই বিষয়টি একটু অবাক করার মতোই। মুখে আমরা মানবতা মানবতা করে চিল্লাই কিন্তু সহানুভূতির বেলায় শূন্য।

সারা বিশ্ব যখন করোনা মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে, ঠিক এ সময়ে খাবারের ছবি ফেসবুকে দেওয়া কতটুকু যুক্তিসঙ্গত। অতীতে মানুষ ছবি তুলত বিশেষ কোনো দিনে, বিশেষ সময়ে, বিশেষ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে। সেই যুক্তিমতে আপনি যখন খাবারের ছবি শেয়ার করছেন, তখন আপনি এই মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে চাইছেন। তাহলে হতে পারে ঐ খাবার আপনি জীবনে প্রথমবারের মতো খাচ্ছেন, এর আগে কখনো খাননি অথবা বাংলাদেশ একটি দরিদ্র রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও আপনি যে দামি রেস্টুরেন্টে গিয়েছেন এবং দামি খাবার অর্ডার করেছেন বা নিজেরা অনেক ধনী মানুষ সেটি সবাইকে জানাতে চাইছেন।

আপনি ভালো করেই জানেন আপনার ফ্রেন্ডলিস্টের অনেকেরই  ঐ সব দামি খাবার খাওয়ার মতো সামর্থ্য নেই। তার মানে কি এটা দাঁড়ায় না যে, আপনার ভেতরে সহানুভূতি নেই, আপনি নিজেকে বিত্তবান হিসেবে জাহির করতে চাইছেন অথবা আপনার শেয়ার করা ছবির খাবারগুলো আপনি জীবনে প্রথমবারের মতো খাচ্ছেন? বর্তমান সময়ে তরুণ সমাজের একটি ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে খাবারের আগে ঐ খাবারের ছবি ফেসবুকে না দিলে যেন খাবার পেটে গিয়ে হজম হবে না। যেরকমটা খাবার আগে গ্যাসের রোগীদের গ্যাসের ওষুধ সেবন করাটা বাধ্যতামূলক। এটা যদি বর্তমান সময়ের ট্রেন্ড হয়, তাহলে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি হুমকির মুখে পড়বে। কারণ আমাদের দেশের বেশির ভাগ রেস্টুরেন্টে বিদেশি খাবার সরবরাহ করা হয়। ইউটিউব দেখেও আমরা বিদেশি খাবার তৈরি করছি। আর আমরা বিদেশি সংস্কৃতিকে উপস্থাপন করছি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আমরা যে সংস্কৃতি রেখে যাব আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্মরা সেখান থেকে শুরু করবে। এতে করে তারা আমাদের হাজার বছরের বাংলা সংস্কৃতিকে খুঁজে পাবে না। ফেসবুকে খাবারের ছবি শেয়ারের মাধ্যমে আমরা আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে দূরে ঠেলে দিচ্ছি, আমরা সহানুভূতিশীল না, তার পরিচয় দিচ্ছি, ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে বাংলা সংস্কৃতি চেনার পরিবর্তে বিদেশি সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি। আসুন আমরা সবাই মিলে ফেসবুকে খাবারের ছবি না দিয়ে করোনার এই দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই।

n লেখক : শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া