করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় মাঠে নেমেছে সরকারের ইমারত নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত অধিদপ্তর। রাজধানীসহ সারাদেশের হাসপাতালগুলোতে কারিগরি সহায়তা ও অবকাঠামো নির্মাণে এগিয়ে এসেছে তারা। ইতিমধ্যে আশকোনার হজ ক্যাম্প কোয়ারেন্টাইনের উপযোগী করা, ১৮টি হাসপাতালে পিসিআর ল্যাবরেটরির অবকাঠামো নির্মাণ, ৪৭টি হাসপাতালে সাড়ে ৯০০ শয্যার আইসোলেশন ইউনিট নির্মাণ, ৮টি হাসপাতালে ৮৫০ শয্যার কোয়ারেন্টাইন সেন্টার স্থাপন, ১১টি হাসপাতালে ৩৫০ শয্যার করোনা ইউনিট স্থাপন, আইইডিসিআর এর নতুন ১০তলা ভবনের নিচতলায় নমুনা সংগ্রহ কক্ষ ও ক্যানটিন এবং দায়িত্বরত চিকিত্সকদের থাকার জন্য আবাসনের ব্যবস্থা, কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের তিনটি কক্ষকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে ২৯ শয্যার আইসিইউ নির্মাণ এবং করোনা রোগীদের ব্যবহারকৃত সরঞ্জামাদি পোড়ানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থার অবকাঠামো ইনসিনারেটর নির্মাণ, মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ১৮০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড এবং ১০ শয্যার আইসিইউ নির্মাণ করা হয়েছে।
গণপূর্তের প্রকৌশলীরা জানান, করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিত্সায় হাসপাতালগুলোতে পিসিআর ল্যাবরেটরির অবকাঠামো নির্মাণ, আইসোলেশন ইউনিট, কোয়ারেন্টাইন সেন্টার, করোনা ইউনিট স্থাপন ছাড়াও এসব স্থাপনাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন পানি ও বিদ্যুত্ সরবরাহ নিশ্চিতকরণসহ জীবাণুনাশক ছিটানোর কাজটিও নিয়মিত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, খুলনা মেডিক্যালসহ ১৮টি হাসপাতালে পিসিআর ল্যাবরেটরির অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, গোপালগঞ্জ জেলা হাসপাতাল, কুড়িগ্রাম জেলা হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজসহ ৪৭টি হাসপাতালে সাড়ে ৯০০ শয্যার আইসোলেশন ইউনিট নির্মাণ করা হয়েছে। তারা জানান, মুন্সীগঞ্জ জেলা হাসপাতাল, নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতাল, টাঙ্গাইলের ট্রমা সেন্টারসহ জেলা হাসপাতালগুলোর মধ্যে ৮টি হাসপাতালে ৮৫০ শয্যার কোয়ারেন্টাইন সেন্টার, ১১টি হাসপাতালে ৩৫০ শয্যার করোনা ইউনিট স্থাপনসহ বিভিন্ন হাসপাতালে আইসিইউ বেড বসানো হয়েছে। আইইডিসিআরের নতুন ১০তলা ভবনের নিচতলায় নমুনা সংগ্রহ রুম ও ক্যানটিন এবং দায়িত্বরত ডাক্তারদের থাকার জন্য আবাসনের ব্যবস্থা, কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের তিনটি কক্ষকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে ২৯ শয্যার আইসিইউ নির্মাণ এবং করোনা রোগীদের ব্যবহারকৃত সরঞ্জামাদি পোড়ানোর জন্য ইনসিনারেটর নির্মাণ করা হয়েছে। মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ১৮০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড এবং ১০ শয্যার আইসিইউ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া চীনের উহান থেকে ফিরিয়ে আনা শিক্ষার্থীদের জন্য আশকোনার হজ ক্যাম্প কোয়ারেন্টাইনের উপযোগী করে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে সংস্থাটি।