চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনে (কেইপিজেড) বাসের ধাক্কায় তিন গার্মেন্টস শ্রমিক নিহত ও ৪০ জন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন, বরিশালের মো. লতিফ (৫০), কর্ণফুলী উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের সুলতানা রাজিয়া রিজু (৩৫), লোহাগাড়া চুনতীর সামশুল হুদার পুত্র মো. ইরফান (২৮)। গতকাল শনিবার সকালে কেইপিজেডের অভ্যন্তরে ইয়ং ওয়ান সু ফ্যাক্টরির গেইটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন, উজ্জ্বল কান্তি, তানিয়া আকতার, ইসফিকা চৌধুরী, জয়া, রমা চৌধুরী, রুম্পী জাহান, রহিমা, সাথী, কাউছার আকতার, শাখী, তৌহিদুল আলম, সুমন কান্তি দে, নার্গিস, লাভলী, মিতালী, রাজু বড়ুয়া, আইরিন, চেমন আরা, ইয়াসমিন, শামীমা, উত্তম, কাকলী, রহিমা, মিনতী, শুক্লা, রুবি, রুবি আকতার, তানিয়া, আমিন, বিশ্বজিত, ফারুক, তৈয়বা সুলতানাসহ দুই বাসের অনন্ত ৪০ জন গার্মেন্টস শ্রমিক। চমেক হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন ৯ জন। ক্ষুব্ধ গার্মেন্টস শ্রমিকরা বহনকারী তিন বাসে আগুন ধরিয়ে দেন। ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মত কোরিয়ান ইপিজেডের শ্রমিকরা বাসে করে তাদের কর্মস্থলে যান। গতকাল সকালে তাদের বহনকারী একটি দ্রুতগতির বাস ইয়ং ওয়ান সু ফ্যাক্টরির গেইটের সামনে অপর একটি বাসের পিছনে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে গার্মেন্টস শ্রমিক লতিফ মারা যান এবং আহতদের চমেক হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিত্সাধীন অবস্থায় রাজিয়া ও ইরফান মারা যায়। ঘটনার পরে ক্ষুব্ধ অন্য গার্মেন্টস শ্রমিকরা তিনটি বাস আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়।
কোরিয়ান ইপিজেডের (কেএসআই) জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, দুর্ঘটনার পরেই পার্শ্ববর্তী কিছু যুবক ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিয়ে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করেছিল। তাত্ক্ষণিক পুলিশ উপস্থিত হওয়ার কারণে দুষ্কৃতিকারীরা ফ্যাক্টরির মালামাল লুট করতে পারেনি। মূলত গেইটের পাশে দাঁড়ানো বাসকে অপর একটি বাস ধাক্কা দিলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুড়ে দেওয়া তিনটি বাস পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। কেএসআই ফ্যাক্টরির পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।