রাজধানীর মালিবাগে বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। গতকাল রবিবার সকালে তাহসিন ফ্যাশন নামের পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা আবুল হোটেলের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক এতে অংশ নেন। পরে বেতন পরিশোধের আশ্বাসে তারা সড়ক ছাড়েন। গাজীপুরে পরিবহন শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। দিনাজপুরের হিলিতে বকেয়া বেতন ও মিল চালুর দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন আরনু জুটমিলের শ্রমিকেরা।
হাতিরঝিল থানার ওসি আব্দুর রশিদ বলেন, মালিবাগ চৌধুরীপাড়া আবুল হোটেলের সামনে তাহসিন ফ্যাশনের শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেন। আমরা গিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলি। বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা হচ্ছে জানালে শ্রমিকেরা সড়ক ছাড়েন।
এ ব্যাপারে তাহসিন ফ্যাশনের সুপারভাইজার উজ্জল বলেন, আমাদের গত দুই মাসের বেতন পাওনা রয়েছে। বেশ কয়েক দিন ধরে বেতন দেওয়ার কথা বলে আমাদের ঘোরাচ্ছে। বেতন চাইতে রবিবার সকালে ২২০ জন শ্রমিক গিয়েছিলাম। পরে আমাদের কারখানার মালিক হাজি মাওলানা ইসাহাক চৌদার বলেছেন, আগামী মঙ্গলবার আমাদের বেতন পরিশোধ করে দেবেন। শ্রমিকরা জানান, করোনার কারণে বকেয়া বেতন পরিশোধ না করায় তাদের মানবেতর জীবন-যাপন করতে হচ্ছে। পাওনা আদায়ে বাধ্য হয়ে তাদের সড়কে নামতে হয়েছে।
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, গাজীপুর মহানগরের বোর্ডবাজার এলাকায় পরিবহন শ্রমিকেরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে গতকাল সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ করেছেন। পরে শ্রমিক নেতাদের আশ্বাসে পাঁচ ঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা জানান, সরকার, মালিক ও শ্রমিক নেতাদের কথামতো দীর্ঘ এক মাস গাড়ি না চালিয়ে তারা বাসায় বসে আছেন। এখন তাদের ঘরে খাবার নেই। ঘরভাড়া ও দোকান বাকি হয়েছে। সরকার কিংবা পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের কোনো রকম সহযোগিতাও পাচ্ছেন না। বিশেষ করে এত দিন ধরে শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের নামে প্রতিদিন যে চাঁদা দিয়ে আসছেন, সেই ফান্ড থেকেও কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। কোনো উপায় না দেখে তারা আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন। তারা আরো জানান, পরিবহন শ্রমিকদের পরিচয়পত্র শ্রমিক সংগঠনে জমা দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত কারো কাছ থেকে কোনো প্রকার সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
হাকিমপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা জানান, গতকাল বেলা ১১টায় মিলের সামনে শ্রমিকরা এই বিক্ষোভ করেন। এসময় পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। পরে বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং দু-এক দিনের মধ্যে মিলে কাজ শুরু হবে এমন আশ্বাস পেয়ে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ তুলে নেন।
জুটমিলের শ্রমিকরা জানান, গত মার্চ মাসে তাদেরকে ১০ কেজি চাল, ৩ কেজি আলু এবং ১ কেজি সয়াবিন তেল দিয়ে মিল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এর পর আর কোনো সহায়তা দেওয়া হয়নি। কিন্তু বলা হয়েছিল প্রতি সপ্তাহে তাদের খাবার দেওয়া হবে এবং ২৬ এপ্রিল বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিকরা জুটমিলের সামনে জড়ো হন।
আরনু জুটমিলের ম্যানেজার মিজানুর রহমান জানান, আমাদের এখানে প্রায় ৮০০ শ্রমিক কাজ করেন। সরকারের নিয়ম অনুসারে সারা দেশের মতো আরনু জুটমিলও বন্ধ রয়েছে। মিল বন্ধ থাকার কারণে তাদের একটা বিল বকেয়া আছে। যেহেতু আমাদের জুটমিলটি রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান, তাই ভারতে লকডাউনের কারণে মালামাল পাঠাতে পারিনি। এই সপ্তাহের মধ্যেই মিল চালু করা হবে এবং শ্রমিকদের বকেয়া বিল পরিশোধ করা হবে।