করোনা ভাইরাসের কারণে সাধারণ ছুটির পাশাপাশি সারাদেশে বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন দোকান ও শপিং মল। তবে সাধারণ মানুষের জরুরি প্রয়োজনে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দোকান ও ফার্মেসি খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ফার্মেসি খোলা রাখার অনুমতি থাকলেও সেখানে মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। আবার অনেক ফার্মেসি নিয়ম লঙ্ঘন করে বিক্রি করছে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের পণ্য। ফার্মেসিতে চাল-ডাল-চিনি-লবণসহ নানা ধরনের খাদ্যপণ্যও বিক্রি হচ্ছে। বিষয়টিকে ‘নিয়মবহির্ভূত’ বলছে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর।
জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সবাইকে তিন ফুট দূরত্বে অবস্থান করে জরুরি কেনাকাটা করার বিষয়ে জোর দিলেও অধিকাংশ ফার্মেসিতে এগুলো মানতে দেখা যাচ্ছে না। সরেজমিন দেখা গেছে, ওষুধ বিক্রির এসব প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর চালুর কারণে সেখানে ক্রেতাসমাগমও বেড়েছে। ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ বিক্রি করছে মুদিপণ্য। কিছু ফার্মেসির ভেতরে দূরত্ব নির্দেশক বৃত্ত আঁকা আছে। তবে তা মানতে দেখা যায়নি ক্রেতাদের। যে যার মতো গা ঘেঁষে দাঁড়াচ্ছেন। ফার্মেসিগুলোর দায়িত্বশীলরাও এ ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর, গ্রিনরোড ও উত্তরাসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখা যায়, ‘মডেল ফার্মেসি’ হিসেবে ওপরে লেখা থাকলেও দোকানের প্রবেশপথ ধরে ভেতরে ঢুকলেই দেখা যায়, বাম পাশে ফার্মেসি ও ডান পাশে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর। ২৪ ঘণ্টাই ক্রেতাদের সমাগম থাকে গ্রিনরোডের একটি ফার্মেসিতে। শুরু থেকেই এই ফার্মেসিতে ওষুধের পাশাপাশি ড্রাই ফুড, বিভিন্ন প্রসাধনী, চালের প্যাকেট, ডাল, চিনি, তেলসহ অন্যান্য পণ্য বিক্রি করে আসছে বলে জানান একজন নিয়মিত ক্রেতা। নাম প্রকাশ না করে তিনি বলেন, করোনা শুরুর পর থেকে এই দোকানে অনেকেই আসছে। মালিকও দোকানে নিত্যনতুন মুদি পণ্য তুলছেন। মোহাম্মদপুরেও ওষুধের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করছে তারা। নেই কেবল শাকসবজি ও মাছ-মাংস। বাকি সবই আছে। নতুন করে এই স্টোরে সংযোজন হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফল। ফার্মেসির ভেতরে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু মানা হচ্ছে না শারীরিক দূরত্বের নির্দেশনা। অন্যদিকে উত্তরা রাজলক্ষ্মী ঘুরে দেখা গেল একই দৃশ্য।
ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর জানায়, ‘মডেল ফার্মেসির মালিকদের সঙ্গে কথা বলে প্রায় ৪০ ধরনের পণ্যের তালিকা করে দেওয়া আছে, যেগুলো ফার্মেসিতে রাখা যাবে। ‘মডেল ফার্মেসিতে কিছু নন-ফার্মাসিউটিক্যাল আইটেম রাখার সুযোগ আছে। যেমন, ডেটল, স্যানিটারি প্যাড, ডায়াপার, মেডিকেটেড টুথপেস্ট, মেডিকেটেড শ্যাম্পু এগুলো তারা রাখতে পারে।’ এর বাইরে চাল, ডাল, তেল এগুলো বিক্রির সুযোগ নেই।’ এ বিষয়ে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেন, যেসব ফার্মেসিতে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর চালু আছে সেগুলো শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা এসব ফার্মেসি শনাক্ত করে অভিযান চালাব।