সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জসহ ঢাকার আশেপাশে ভোটকেন্দ্রগুলোতে গতকাল শনিবার ব্যালট পেপার, ভোট বাক্সসহ যাবতীয় নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌছে গেছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে মোতায়েন রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ।
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ জানান, গতকাল শনিবার সকাল থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতর থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌছে গেছে ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স। শান্তিপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠানের জন্য সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিচারিক হাকিম নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। ভোটের পরদিন পর্যন্ত তারা মাঠে থাকবেন। সুষ্ঠু-শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণে সবকিছু কঠোরভাবে মনিটরিং করছে নির্বাচন কমিশন। আনসার, ভিডিপিসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যাতে তাদের দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করতে পারেন সে লক্ষ্যে জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ গতকাল শনিবার সকালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও আনসারদের ব্রিফ করেন। এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া জানান, নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণের জন্য করণীয় সকল পদক্ষেপ প্রশাসন গ্রহণ করেছে।
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, শনিবার সকাল থেকে ভোট গ্রহণের জন্য নির্বাচনী উপকরণসহ যাবতীয় মালামাল প্রিজাইডিং অফিসারের মাধ্যমে স্ব স্ব কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। আজ ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুরের ৫টি সংসদীয় আসনে মোট ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মূলত: প্রতিটি আসনেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যেই লড়াই হবে বলে স্ব স্ব নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের অভিমত। গাজীপুরের ৫টি আসনে মোট ২৪ লক্ষ ১৬ হাজার ৮৬৯জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে ১২ লক্ষ ১৪ হাজার ৯৫৫ জন পুরুষ এবং ১২ লক্ষ ১ হাজার ৯১৪জন মহিলা ভোটার। ৯২২টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৪হাজার ৫৪১টি ভোট কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমান জানান, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণের জন্য ভোটকেন্দ্রগুলো এবং সেগুলোর আশেপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের ১৫ হাজারের বেশি সদস্য দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর জানান, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে ভোটের উপকরণসহ ব্যালট পেপার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সহকারী রিটার্নিং অফিসার কাছে এসব ভোটের সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচনে ৩৫জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ১৬জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মানিকগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে গেছে নির্বাচনী সরঞ্জাম। শনিবার সকাল থেকে জেলা সদর ও বিভিন্ন উপজেলার ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী সামগ্রী পাঠানোর কাজ শুরু হয়। প্রতিটি উপজেলা থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে নির্বাচনের প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের হাতে নির্ধারিত ব্যালট পেপার, বাক্স, সিল-প্যাডসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি তুলে দেন সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার ও পুলিশ মোতায়েন কার্যক্রমও সকাল থেকে শুরু হয়ে যায়।
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মুন্সীগঞ্জে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন। শনিবার সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে এসব সরঞ্জামাদি প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারুক আহাম্মেদ জানান, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সদর উপজেলা মিলনায়তন থেকে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নের ১১৬টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণের সরঞ্জমাদি বিতরণ করা হয়। একইভাবে জেলার অন্য পাঁচ উপজেলাতেও ভোট গ্রহণের সরঞ্জমাদি বিতরণ হয়। রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতিই এখন সম্পন্ন।
মুন্সীগঞ্জ জেলার ৬টি উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ৬৮টি ইউনিয়নের ৪৬১ ভোট কেন্দ্র এখন ভোট গ্রহণের জন্য প্রস্তুত। এ জেলায় ১১ লাখ ৬৩ হাজার ১৯৬ জন ভোটারের মধ্যে মহিলা ভোটার ৫ লাখ ৬৫ হাজার ৩৬৩ জন এবং পুরুষ ভোটার ৫ লাখ ৯৭ হাজার ৮৩৩। জেলার তিনটি আসনে নৌকা ও ধানের শীষসহ ২২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে একজন স্বতন্ত্র ও একজন জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এই জেলার তিন আসনেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থীদের মধ্যে। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের মোট ১৭৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের সরঞ্জাম বিতরণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়। দোহার উপজেলার সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে ৭৫টি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনী কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে নিজ নিজ কেন্দ্রে গেছেন। অন্যদিকে নবাবগঞ্জ উপজেলার ১০৩টি কেন্দ্রে নবাবগঞ্জ সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে ভোটের প্রয়োজনীয় উপকরণও পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভোট গ্রহণের জন্য ফরম, স্টেশনারী, ব্যালট পেপার, বাক্সসহ অর্ধশতাধিক নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। রবিবার সকাল আটটায় শুরু হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। ঢাকা-১ আসনে ৪ লাখ ৪০ হাজার ৪০৭ জন ভোটার নির্বাচনে ভোট দেবেন। বিকাল চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে ভোট।