স্ত্রী ফাহমিদা আক্তার ফালানীর সাথে পরকীয়া সম্পর্ক চলছিল মাছ ব্যবসায়ী মোক্তার হোসেনের। এ কথা জানতে পেরে স্ত্রীকে দিয়ে তার পরকীয়া প্রেমিককে বাসায় ডেকে আনে স্বামী আরিফ মোল্লা। তারপর মাছ ব্যবসায়ী মোক্তার হোসেনকে শ্বাসরোধে হত্যা করে আরিফ মোল্লা। হত্যার পর ৪ দিন লাশ একটি ড্রামে ভরে নিজ বাড়িতে একটি কক্ষে রেখে দেয় তারা। পরবর্তীতে পুরান বন্দর প্রধান বাড়ি এলাকার রাস্তার পাশে ফেলে দেয় স্বামী-স্ত্রী। বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন হোসেনের আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে ঘাতক স্বামী আরিফ মোল্লা। জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক গিয়াস উদ্দিন জানান, ঘাতক আরিফ মোল্লার দ্বিতীয় স্ত্রী ফাহমিদা আক্তার ফালানীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল মাছ ব্যবসায়ী মোক্তার হোসেনের। বিষয়টি স্বামী আরিফ মোল্লা জানতে পেরে দ্বিতীয় স্ত্রী ফলানীকে দিয়ে মোক্তারকে তাদের বাড়িতে ডেকে আনে। এ সময় তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে মোক্তারকে শ্বাসরোধে হত্যা করে আরিফ মোল্লা। পরে নিহত মোক্তারের লাশ একটি ড্রামের মধ্যে ভরে ৪ দিন নিজেদের বাড়িতেই রেখে দেয় আরিফ ও তার স্ত্রী ফালানী। পরে লাশভর্তি ওই ড্রামটি পুরান বন্দর প্রধান বাড়ি এলাকার রাস্তার পাশে ফেলে দেয় তারা।
এর আগে গত ১৬ ডিসেম্বর রাতে একটি পুকুরের মাছ পাহারা দেওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় মোক্তার হোসেন। পরদিন সকালে সে বাসায় না ফেরায় বিকেলে বন্দর থানায় তার স্ত্রী শিল্পী বেগম বাদী হয়ে স্বামীর নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি দায়ের করেন। ২০ ডিসেম্বর সকালে পুরান বন্দর প্রধান বাড়ি এলাকার রাস্তা থেকে ড্রামভর্তি ওই লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে তার স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিহত মোক্তার হোসেন ওই এলাকার মৃত হাজী আবুল হাশেমের ছেলে। তিনি নিজের মত্স্য খামারের মাছ বিক্রি ও কৃষি জমিতে ফসলের ব্যবসা করতেন। তার স্ত্রী, তিন মেয়ে ও একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।