থাইল্যান্ডের অর্থ মন্ত্রণালয় ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে ইঁদুরের বিষ খাবার পর এক নারীকে জরুরি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে উপস্থিত এক ট্যাক্সি চালক জানান, ইঁদুরের বিষ খাবার আগে ঐ নারী চিৎকার করে বলছিলেন, 'কেউ আমার জন্য ভাবে না'।
করোনা মহামারী মোকাবেলায় দেশটির সরকারের গৃহীত 'টিবিএইচ ৫০০০' বা প্রত্যেকের জন্য ৫ হাজার থাই মুদ্রা (১৩ হাজার টাকা) সহায়তা কার্যক্রমে নিজের নাম না থাকায় প্রতিবাদ স্বরূপ এই নারী মন্ত্রণালয় ভবনের সামনে বিষ খেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কোকোনাটস নামক দেশটির অলটারনেটিভ অনলাইন পাবলিশারে প্রকাশিত এই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিষ খাওয়া এই নারীর নাম আনিয়াকান বুপ্রাসার্ট। থাইল্যান্ড সরকার গৃহীত 'টিবিএইচ ৫০০০' সহায়তা কার্যক্রমের স্লোগানে বলা হয়, 'কাউকে বাদ দেয়া হবে না'। কিন্তু এই নারী সেই সহায়তা কার্যক্রম থেকে বাদ পড়েন।
ঘটনার সময় উপস্থিত মোটরবাইক ট্যাক্সি চালক জানান, এই নারী চিৎকার করে বলে 'কেউ আমার জন্য ভাবে না'। এরপর একটি বোতল হাতে নেয় এবং সেই বোতলে থাকা গোলাপি রঙের কিছু সে খেয়ে নেয়। এরপর সে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
এ ঘটনার পরপর আনিয়াকানকে ফেরা মংকুটক্লাও হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরতরা ধারণা প্রকাশ করেন, আনিয়াকান যা খেয়েছে তা ইঁদুরের বিষ হতে পারে।
করোনা মহামারীতে সংকট কতটা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে তা আনিয়াকানের আত্মহত্যা চেষ্টা আরো একবার প্রমাণ করলো। দেশটিতে দরিদ্র সীমায় বসবাস করা সকলের কাছে ৫ হাজার থাই বাত প্রদানের অঙ্গীকার করেও তা না দেয়ায় দেশটির সরকারের সমালোচনা করা হচ্ছে। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আনিয়াকানের মত অনেকেই খালি হাতে ফেরত আসছেন।
করোনা মহামারীকে কেন্দ্র করে থাইল্যান্ডে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, গত সপ্তাহ জুড়ে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা দেয়ার হট লাইনে প্রচুর মানুষ কল করছে।
ইত্তেফাক/আরএ