মকবুল হামিদ
বাবুই পাখির বাসা বুনন যেন সুনিপুণ শিল্পকর্ম। বাবুই পাখির তৈরি বাসার মতো এত সুন্দর বাসা অন্য কোনো পাখির নেই। বাবুই পাখি তার শক্ত সরু দুটি ঠোঁট দিয়ে খড়কুটো সংগ্রহ করে বাসা বুনে থাকে বলে বাবুইকে শিল্পী পাখি বলা হয়।
বাবুই পাখির আরেক নাম হচ্ছে ‘তাঁতি পাখি’ (weaver bird)। আমাদের দেশে তিন ধরনের বাবুই পাখি দেখতে পাওয়া যায়। এগুলো হলো দেশি বাবুই, দাগি বাবুই, বাংলা বাবুই। দাগি বাবুই ও বাংলা বাবুই বিলুপ্তির পথে। তবে দেশি বাবুই আগে যেমন গ্রামের আঁকাবাঁকা পথের দুপাশে তাল-নারকেল গাছে দেখা যেত, এখন আর তেমন দেখা যায় না।
বাবুই পাখি দেখতে খুবই সুন্দর। পুরুষ বাবুই ও স্ত্রী বাবুই পাখির গায়ে কালো কালো দাগসহ পিঠের রং তমাটে, নিচের দিকে দাগ নেই, ঠোঁট দুটি পুরো, লেজ চৌকা আকৃতির। প্রজনন ঋতুতে পুরুষ বাবুইয়ের পিঠ হয় গাঢ় বাদামি। বাবুই পাখির কানের পিছনে একটা ফুটো থাকে।
বাবুইপাখি তালগাছ, খেজুরগাছ, নারকেলগাছ, সুপারিগাছ ছাড়াও আখখেতেও বাসা বুনে থাকে। হোগলাপাতা, নারকেলপাতা, নলখাগড়াপাতা এনে বাসা বোনে। বাবুই পাখির বাসা দেখতে উলটো কলসির মতো। ঘরের দরজা থাকে নিচের দিকে। প্রবল বাতাস তাদের ঘর ভাঙতে পারে না এবং প্রবল বৃষ্টিতে তাদের ঘরে কোনো দিক দিয়ে এক ফোঁটা পানিও গড়িয়ে পড়ে না। বাবুই পাখির বাসা এত মজবুত যে, টেনে ছিঁড়ে ফেলা সম্ভব নয়। একটি বাসা বুনতে সময় লাগে প্রায় ১৬ দিন। বাসা বুননের পর সঙ্গী খোঁজার পালা। নারী বাবুই বাসার চারদিকে ঘুরে ঘুরে দেখার পর যদি বাসা তার পছন্দ হয়, তাহলে সে পুরুষ বাবুইয়ের সঙ্গে থেকে যায়। বাসা পছন্দ না হলে নারী বাবুই থাকে না। পুরুষ বাবুই আবার অন্য জায়গায় বাসা বুনতে শুরু করে। বাবুই এক এক মৌসুমে প্রায় ৬টি বাসা বোনে এবং ৬ জন সঙ্গী খোঁজে।
বাবুই পাখির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, রাতের বেলায় ঘর আলোকিত করার জন্য জোনাকি পোকা ধরে নিয়ে আসে এবং ঘর আলোকিত করে। রাত শেষে সকাল হলেই জোনাকি পোকাকে ছেড়ে দেয়ে। এভাবে প্রতিরাতে একটা করে জোনাকি ধরে নিয়ে আসে।
বাবুই পাখির প্রিয় খাবার হলো ধান, চাল, গম ও পোকা-মাকড়।