রাজশাহীর ক্রীড়াবিদদের পাশে পাইলটের দল

স্পোর্টস রিপোর্টার

রাজশাহীর ক্রিকেট সংগঠিত করা ও খেলার মান বাড়ানোয় খালেদ মাসুদ পাইলটের অবদান অনস্বীকার্য। এবার জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক তার সঙ্গীদের নিয়ে এগিয়ে এসেছেন এই জেলার তুলনামূলক অভাবে থাকা ক্রীড়াবিদদের পাশে থাকার জন্য। করোনার প্রবল প্রতাপের সময়ে অনেক সাবেক ক্রীড়াবিদ কাজ হারিয়েছেন বা দৈনিক উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের জন্য ‘রমজানের উপহার’ দিচ্ছেন সাবেক ক্রিকেটাররা।

রাজশাহীতে সাবেক ক্রিকেটারদের একটা মঞ্চ আগে থেকেই প্রস্তুত আছে—মাস্টার্স ক্রিকেটার্স। এই ক্রিকেটাররা কয়েকটি দল বানিয়ে প্রতি বছর টুর্নামেন্ট খেলেন। এখানে প্রায় ২৫০ সাবেক ক্রিকেটার যুক্ত আছেন। এই ক্রিকেটারদের নিয়েই শুরু হয়েছে উদ্যোগটা। এরা সবাই নিজেরা তাদের তহবিলে কিছু কিছু অর্থ দিচ্ছেন। অনেকে আবার নিজেদের বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকেও তহবিল সংগ্রহ করছেন। আর এই তহবিল দিয়েই জেলার সাবেক ক্রীড়াবিদ, নারী ও পুরুষ দুস্থ ক্রীড়াবিদ, গ্রাউন্ডসম্যানদের দেওয়া হচ্ছে সহায়তা। রমজান মাস শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ জন ক্রীড়াবিদকে এক মাসের চলার মতো খাদ্য উপকরণ দেওয়া হচ্ছে। এই উদ্যোগ সম্পর্কে জানাতে গিয়ে পাইলট বলছিলেন, ‘অনেক সাবেক খেলোয়াড় আছেন, যাদের আয় এই সময় একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। এরা কারো কাছে চাইতেও পারেন না, লাইনেও দাঁড়াতে পারেন না ত্রাণের জন্য। আমরা তাদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটাকে আমরা ত্রাণ বা সহায়তা বলতে চাই না। এটা তাদের জন্য আমাদের রমজানের উপহার।’

এই উপহার পাওয়াদের তালিকায় কেবল সাবেক ক্রীড়াবিদরা আছেন, তাই নয়। নারী ক্রীড়াবিদরা আছেন। আছেন বিভাগীয় ও জেলা মাঠে কাজ করা গ্রাউন্ডসম্যানরাও। শুরুতে পাইলটরা ভেবেছিলেন, শুধু ক্রিকেটারদের এই উপহারের আওতায় নেওয়া হবে। পরে তারা ফুটবলার, টেনিস খেলোয়াড় ও সব খেলার লোকদের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

পাইলটদের পরিকল্পনা হলো, প্রথমে তারা যেসব দুস্থ ক্রীড়াবিদকে চেনেন, তাদের কমপক্ষে একমাসের উপকরণ দেওয়া। এরপর তহবিল বাড়াতে পারলে তারা সাধারণ মানুষের মাঝে যেতে চান। তিনি বলছিলেন, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল আমাদের চেনা মানুষগুলোর মধ্যে যারা খেলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, এখন সমস্যায় আছেন, তাদের পাশে থাকা। এরপর সম্ভব হলে আমরা সাধারণ মানুষের ভেতরে যাবো। সেটা করার জন্য আমরা প্রয়োজনে একটা তহবিল করে জেলা প্রশাসক বা মেয়র মহোদয়ের তহবিলে দিয়ে দিতে পারি।’

সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়ক মনে করেন, প্রতিটা জেলায় সামর্থ্যবান  সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়রা এই ধরনের উদ্যোগ নিলে অন্তত দুস্থ ক্রীড়াবিদরা রক্ষা পেতে পারেন। তিনি বলছিলেন, ‘প্রতিটা জেলায়ই সাবেক খেলোয়াড় আছেন। যাদের অনেকের ভালো সামর্থ্য আছে। তারা চাইলে এই ধরনের উদ্যোগ নিতে পারেন। এতে খেলার সেক্টরে অন্তত কেউ কষ্টে থাকবে না।’