এবার ভোটপূর্ব সহিংসতা কম হয়েছে ----------------আওয়ামী লীগ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আগ পর্যন্ত অন্য জাতীয় নির্বাচনগুলোর তুলনায় কম সহিংসতা হয়েছে বলে দাবি করেছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনকালীন সহিংসতা নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলারের বক্তব্যের প্রসঙ্গে এমন কথা জানান দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক ড. সেলিম মাহমুদ।  তিনি বলেন, ‘একজন রাষ্ট্রদূত ব্যাপক সহিংসতার কথা বলেছেন। সহিংসতা মূলত যেটুকু হয়েছে তার মূল ভিক্টিম আওয়ামী লীগ। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতায় ৫০০ লোক মারা গেছে। ২০১৪ সালে পেট্রোল বোমায় অন্তত আর ৩০৪ জন মানুষ মারা গেছে। সে তুলনায় এবার  সহিংসতা কম হয়েছে।’

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সাথে দেখা করে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদল। সাক্ষাতের আগে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন তারা। প্রতিনিধিদলের প্রধান ও আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য আক্তারুজ্জামান বলেন, নির্বাচনকালীন সহিংসতায় আওয়ামী লীগের ছয়জন নেতাকর্মী মারা গেছেন। মূলত নির্বাচনকে ভণ্ডুল ও প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানা অপচেষ্টা করেছে বিএনপি-জামায়াত চক্র। তারা দেশপ্রেমী সশস্ত্র বাহিনীকেও নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য ও অপপ্রচার করেছে। এসব কাজ সংবিধান ও আইনের পরিপন্থী। তবে সকল চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র নস্যাত্ করে জাতি আগামীকাল (আজ) সামগ্রিকভাবে তাদের রায় দেবে। 

ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরু, শাহাবুদ্দিন ফরায়জী, নির্বাচন সমন্বয় কমিটির সদস্য কুমার দেবুল দে,  মোস্তাফিজুর রহমান বাবলা প্রমুখ।

নির্বাচনী তথ্য কেন্দ্র স্থাপন: আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি নিজ দলের ও মহাজোটের মনোনীত সব প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যক্রম মনিটরিং ও সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে তথ্য কেন্দ্র। আট বিভাগের জন্য আটটি টেলিফোন ও ফ্যাক্স নম্বর স্থাপন করা হয়েছে। এখান থেকে যেমন নেতাকর্মীরা নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন, তেমনি গণমাধ্যম কর্মীরাও নিতে পারবেন প্রয়োজনীয় তথ্য এবং সর্বশেষ আপডেট।

এছাড়া ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ের প্রবেশ পথের এক পাশে বসানো হয়েছে কাউন্টডাউন প্রজেক্টর, অন্য পাশে বিশাল আকৃতির একটি মনিটর। এই মনিটরে সারা দেশের নির্বাচনী খবরাখবর দেখতে পাবেন নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।  অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে একটি চৌকস টিম, যারা দলের পক্ষে ইসির কাছে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরবেন এবং প্রতিকার চাইবেন। বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য খোলা হয়েছে আরেকটি পৃথক সেল। হোটেল সোনারগাঁওয়ে স্থাপিত এ তথ্য কেন্দ্র থেকে তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহযোগিতা প্রদান করা হবে।