খাতুনগঞ্জে লুকিয়ে রাখা ৮৮ বস্তা আদার সন্ধান

খাতুনগঞ্জে পান-সুপারির গুদামে অভিযান চালিয়ে ১২ টন আদার সন্ধান পেয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ৮৮টি বস্তায় রাখা এসব আদা বেশি দামে বিক্রির জন্য মজুত করা হয়েছিল। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে গতকাল সোমবার সকাল থেকে খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন মার্কেটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় এসব আদার সন্ধান মেলে।

আদালত সূত্র জানায়, খাতুনগঞ্জের বশির মার্কেটে শাহ আমানত ট্রেডার্সে অভিযান চালিয়ে পাশের শুক্কুর আলীর পান-সুপারির গুদামে ৮৮টি বস্তায় ভরে রাখা প্রায় ১২ টন আদার সন্ধান পায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় শাহ আমানত ট্রেডার্সের আদা আমদানির কাগজ দেখে ভ্রাম্যমাণ আদালত জানতে পারেন মিয়ানমার থেকে কেজিপ্রতি ৮৪ টাকায় কেনা এসব আদা ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করছেন আড়তদার তৈয়ব আলী। তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কেজিপ্রতি ১২০ টাকায় এসব আদা পাইকারদের কাছে বিক্রির নির্দেশ দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

পরে খাতুনগঞ্জের একতা ট্রেডার্স, শাহাদাত ট্রেডার্স এবং মাহবুব খান সাওদাগরের আড়তে অভিযান পরিচালনার সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত দেখতে পান প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকায় আদা কিনে সেখানেও প্রতি কেজি ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। আদালত একতা ট্রেডার্সের মালিককে ৫০ হাজার, শাহাদাত ট্রেডার্সের মালিককে ৫০ হাজার এবং মাহবুব খান সওদাগরকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করে।

আদালত সূত্র আরো জানায়, যে চার আড়তদারকে জরিমানা করা হয়েছে তারা আমদানিকারক আজাদ সিন্ডিকেটের লোক বলে তথ্য মিলেছে। এদের আমদানি লাইসেন্স বাতিলে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হবে।

খাতুনগঞ্জের পচনশীল পণ্যের ব্যবসায়ীরা  অবৈধ ব্যবসা করছেন

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রামের নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে বলেছেন, আদা, রসুন, পেঁয়াজ, সবজির মতো পচনশীল পণ্যের ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরেই কমিশন এজেন্ট ও আড়তদার নামে অবৈধ ব্যবসা করে আসছে। যেখানে পণ্য ক্রয়-বিক্রির রশিদ ছাড়াই কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করছেন। আর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ধরা পড়লে ক্রয় রশিদ দেখাতে ব্যর্থ হন। এই অবৈধ ব্যবসার কারণে সংকটকালীন সময়ে পণ্যমূল্য বাজার বারবার অস্থির করে তুলেন এই চক্র। জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানে বারবার এরা চিহ্নিত হলেও চেম্বার ও খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী নেতাদের চাপে তাদের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তির নজির নাই। যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের।

গতকাল সোমবার প্রদত্ত বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বাজারে পচনশীল এসব পণ্যের বাজারমূল্য বা পণ্য বিক্রির কথা বলে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে আমদানির প্রকৃত তথ্য গোপন করে ক্রেতাদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন থেকে দোকানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন ও ক্রয় রশিদ সংরক্ষণে নির্দেশনা দেওয়া হলেও তারা এই নির্দেশ মানছে না। আর প্রকৃত ক্রয় রশিদ, আমদানির বৈধ কাগজপত্র (এলসি) ছাড়া ব্যবসা করার অর্থ হলো অর্থ পাচার ও অবৈধ ব্যবসা। তাই এ ধরনের অবৈধ ব্যবসা বন্ধে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান।