কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
টানা তিন মাসের বেতন না পাওয়ায় কুষ্টিয়ায় চিনিকলের ১ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী পড়েছে চরম দুর্ভোগে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের বেতন এখানো তারা পাননি।
এদিকে শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন ছাড়াও আখচাষিদের বকেয়া ১১ কোটি টাকা ও মিলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের অবসরভাতা বাবদ পাওয়া ১২ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে বলেও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। চিলিকল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আনিসুর রহমান জানান, বেতন না পেয়ে শ্রমিক-কর্মচারীরা খেয়ে, না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
কুষ্টিয়া চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম সরওয়ার মুর্শেদ জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া মিলে ২০ কোটি টাকার মূল্যের ৩ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন উত্পাদিত চিনি অবিক্রীত থাকায় বেতন প্রদান সম্ভব হচ্চে না।
মোবারকগঞ্জ চিনিকলে দুই মাসের বেতন বকেয়া
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ চিনিকল অর্থাভাবে আখচাষিদের পাওনা টাকা পরিশোধ করতে পারছে না। মিলের কাছে আখ ও বীজ বিক্রির সাড়ে ১৯ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। দিনের পর দিন ঘুরেও চাষিরা টাকা পাচ্ছেন না। এছাড়াও মিলের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছে না। মোবারকগঞ্জ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. গোলাম রসুল জানান, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের বেতন বকেয়া পড়েছে। চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আনোয়ার কবির বলেন, শ্রমিক-কর্মচারীদের ফেব্রুয়ারি, মার্চ মাসের বেতন বাবদ ৪ কোটি টাকা বকেয়া আছে। চিনিশিল্প করপোরেশনের হেড অফিস থেকে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
পাবনা চিনিকলের আখচাষি ও শ্রমিক-কর্মচারীরা বিপাকে
ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়াস্থ পাবনা সুগার মিলের কাছে আখচাষিদের পাওনার পরিমাণ প্রায় ২৫ কোটি এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের ৬ কোটি টাকা। করোনা ভাইরাসের এই দুঃসময়েও কৃষকরা তাদের আখ বিক্রির পাওনা টাকা এবং শ্রমিক-কর্মচারীরা তিন মাসের বেতন পাচ্ছেন না। পাবনা সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুদ্দিন জানান, উত্পাদিত চিনি বিক্রি না হওয়ায় আর্থিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রায় ৪০ কোটি টাকার চিনি গুদামে মজুত রয়েছে। পাবনা সুগার মিল ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি সাজেদুল ইসলাম শাহিন জানান, বর্তমানে করোনা ভাইরাসের এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।