আশার আলো দেখতে পাচ্ছে সিসিডিএম

স্পোর্টস রিপোর্টার

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি বহাল রয়েছে ৫ মে পর্যন্ত। সম্প্রতি সিঙ্গাপুর ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি অ্যান্ড ডিজাইন (এসইউটিডি)-এর ডাটা ড্রাইভেন ইনোভেশন ল্যাবের গবেষকরা বলছেন, মে মাসেই বাংলাদেশে ৯৭ ভাগ করোনা ভাইরাস নির্মূল হয়ে যাবে। এই তথ্য আশার আলো দেখাচ্ছে সবাইকে। এরই মধ্যে ক্ষুদ্র আকারে হলেও ধীরে ধীরে সচল হচ্ছে দেশ। রাজধানী ঢাকাসহ নারায়ণগঞ্জ-গাজীপুরে খুলেছে কিছু গার্মেন্টস। হোটেলগুলো ইফতার সামগ্রী বিক্রির জন্য বিকাল চারটা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে দেশের ক্রিকেটাঙ্গনও। বিশেষ করে করোনা পরিস্থিতির পরিবর্তন পর্যবেক্ষণে বেশি তত্পর রয়েছে বিসিবির ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)। করোনার প্রাদুর্ভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রয়েছে বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ।

গত কয়েকদিনে দেশের অভ্যন্তরে গৃহীত ছোটো ছোটো পদক্ষেপগুলো আশাবাদী করছে সিসিডিএমকে। ৫ মের পর সাধারণ ছুটি না বাড়লে, করোনা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখলে প্রিমিয়ার লিগ পুনরায় শুরুর প্রক্রিয়ায় যাবে সিসিডিএম। এজন্য প্রথমে ক্লাবগুলোর সঙ্গে মিটিং করবে লিগের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সবকিছু স্বাভাবিক হতে থাকলে ঈদের আগে বা পরে লিগ মাঠে গড়াতে পারে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে জানিয়ে সিসিডিএমের সদস্য সচিব আলী হোসেন গতকাল বলেছেন, ‘আমরা মোটামুটি পর্যবেক্ষণ করছি যে, কতটুকু উন্নতি হয়। পরিস্থিতি কত ভালো হয়। এখন তো মাত্র কালকে থেকে কিছু কিছু শুরু হয়েছে। দেখি আর একটু অপেক্ষা করি।’

করোনার প্রকোপ কমলে প্রিমিয়ার লিগ শুরুর প্রথম ধাপ হিসেবে ক্লাবগুলোর সঙ্গে আলাপ করার কথাই জানিয়েছেন আলী হোসেন। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘অবশ্যই বসবো। এখন অবস্থা হলো সবগুলো ক্লাবের সঙ্গে আগে বসতে হবে। ক্লাবগুলো কি অবস্থায় আছে। এখন তো প্লেয়াররা সব প্র্যাকটিসের মধ্যেও  নেই। ক্লাবগুলো কতটা প্রস্তুত এই মুহূর্তে? তাদের আবার প্লেয়ারদেরকে টেন্টে আনতে হবে। পরিস্থিতি যদি খুব বেশি উন্নতি করে তাহলে তাদের সঙ্গে বসতে হবে।’

দেশের সিংহভাগ ক্রিকেটারের রুটি-রুজি প্রিমিয়ার লিগ। গত ১৫ মার্চ শুরু হয়ে এক রাউন্ড পরই বন্ধ হয়ে যায় লিগ। তাতে পারিশ্রমিক পাননি বেশিরভাগ ক্রিকেটার। ঈদের আগে দুই-এক রাউন্ড হলে কিছু পারিশ্রমিক পেতে পারেন তারা। বিষয়টি সিসিডিএমের বিবেচনায়ও রয়েছে। পরিবেশ অনুকূলে আসলে আগে না হলেও ঈদের পরপরই লিগ শুরুর চেষ্টা করবে সিসিডিএম।

ক্রিকেটাররাও মুখিয়ে আছেন লিগ খেলতে। এবার লিগে ব্রাদার্স ইউনিয়নে নাম লেখানো মাইশুকুর রহমান গতকাল বলেছেন, ‘আমরা চাই খেলতে। খেলা না হলে টাকা পাব না। কিছু পরিবার তো শুধু এটার ওপর নির্ভরশীল।’  পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দর্শক ছাড়াই খেলতে চান ক্রিকেটাররা। মাইশুকুর রহমান বলেছেন, ‘যদি একটু উন্নতি হয়, তাহলে বিসিবি চাইলে শুরু করতে পারবে। এক মাস বা পরে হোক। সবাই যদি স্বাস্থ্যবিধি মানে তাহলে মনে হয় খেলা সম্ভব।’