দুই হাজার নিয়োগের চাহিদাপত্র পেল পিএসসি

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ২ হাজার চিকিত্সক নিয়োগের চাহিদাপত্র পেয়েছে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। স্বল্প সময়ের মধ্যে ৩৯তম বিশেষ বিসিএসে উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে চিকিত্সক নিয়োগের সুপারিশ করতে যাচ্ছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য দপ্তরে যে ৫৬৪ জন চিকিত্সককে প্রথম শ্রেণির নন-ক্যাডারে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছিল, সেই সুপারিশ বাতিল করেছে পিএসসি। মেধাতালিকা অনুযায়ী তারা এখন নন-ক্যাডার থেকে ২ হাজার চিকিত্সকের ক্যাডারের তালিকায় যুক্ত হবেন। মঙ্গলবার কমিশনের বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সব তথ্য জানিয়ে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক ইত্তেফাককে বলেন, সরকারের চাহিদা অনুযায়ী আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়োগের সুপারিশ করার।

করোনা ভাইরাস বিস্তারের পর চিকিত্সকসংকটের কারণে আক্রান্তদের চিকিত্সা ও অন্য রোগীদের চিকিত্সা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নতুন ২ হাজার চিকিত্সক এবং ৬ হাজার নার্স নিয়োগের কথা জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এরপর গত রবিবার প্রথমে ৬ হাজার সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ দেওয়ার জন্য পিএসসিকে চাহিদাপত্র পাঠায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সরকারের কাছ থেকে চাহিদাপত্র পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার থেকে সরকারি কর্মকমিশনের ক্যাডার এবং নন-ক্যাডার পরীক্ষার শাখার কার্যক্রম বিশেষ ব্যবস্থায় চালু করা হয়। ২০১৮ সালে নিয়োগ দেওয়া নার্সের অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে আপাতত ৫ হাজার নার্স নিয়োগ দিতে পারবে পিএসসি। গত সোমবারই চিকিত্সক নিয়োগের চাহিদাপত্র পায় পিএসসি। তবে আরো ২ হাজার চিকিত্সক নিয়োগ নিয়ে কিছুটা জটিলতায় পড়ে কমিশন। কেননা ৩৯তম বিশেষ বিসিএস থেকে সরকারের চাহিদা অনুযায়ী ডাক্তার নিয়োগের একমাত্র সুযোগ ছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে নন-ক্যাডারে ৩৯তম বিসিএস থেকে সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়ে জটিলতা হয়। এ পরিস্থিতিতে পিএসসি জরুরি সভা ডেকে ৩৯তম বিসিএস থেকে নন-ক্যাডার পদে সুপারিশপ্রাপ্তদের তালিকা বাতিল করতে বাধ্য হয়। নন-ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্তরা এবার ক্যাডারে যুক্ত হচ্ছেন।

পিএসসি সূত্র জানায়, ৩৯তম বিশেষ বিসিএসে পিএসসি থেকে ৪ হাজার ৭৯২ জন চিকিত্সক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। ঐ বিসিএসে উত্তীর্ণ ৮ হাজার ৩৬০ জনের নাম ঘোষণা করা হয়। ২০১৮ সালে ১০ এপ্রিল ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের আবেদন কার্যক্রম শুরু হয়, শেষ হয় ৩০ এপ্রিল। পরে ঐ বছরের ৩ আগস্ট এই বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, এতে ৩৭ হাজার ৫৮৩ জন অংশ নেন। পরীক্ষায় পাশ করেন মোট ১৩ হাজার ৭৫০ জন চিকিত্সক। এর মধ্যে সহকারী সার্জন পদে ১৩ হাজার ২১৯ চিকিত্সক ও ৫৩১ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে উত্তীর্ণ হন।

৩৯তম বিশেষ বিসিএস থেকে চিকিত্সক নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব করে চিকিত্সকদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)। সংগঠনের মহাসচিব ইহতেশামুল হক চৌধুরী সম্প্রতি এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দেন।