প্রণোদনা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বস্ত্র খাত!

করোনা ভাইরাসের বিদ্যমান কঠিন পরিস্থিতিতে তারল্য সংকটে শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে সমস্যায় পড়েছে মালিকপক্ষ। সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী মজুরি প্রদানের স্বার্থে ২ শতাংশ চার্জে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেন। এ ঘোষণায় উদ্যোক্তাদের মধ্যে স্বস্তি আসলেও সম্প্র্রতি মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলারে জটিলতা বাড়িয়েছে। নতুন এ সার্কুলার অনুযায়ী বস্ত্র খাতকে প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারকদের হিসেবে চিহ্নিত করে ৫ হাজার কোটি টাকার এ তহবিল থেকে ঋণ নেওয়া যাবে না বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। এর বদলে বেশি সুদের এসএমই তহবিল থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য বলা হয়।

এ ঘোষণায় হতবাক বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, বিদ্যমান রপ্তানিনীতি আদেশ অনুযায়ী, বস্ত্র খাত রপ্তানিকারক হিসেবে স্বীকৃত। ফলে রপ্তানি খাতের জন্য দেওয়া সুবিধা এ খাত প্রাপ্য। অতীতেও এ খাত এ ধরনের সুবিধা পেয়ে আসছিল। তারা বলছেন, কোন বিবেচনায় বস্ত্র খাতকে এ সুবিধা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তার কোনো ব্যাখ্যা নেই।

অন্যদিকে বস্ত্র খাতের মতো বিশাল বিনিয়োগের এসব শিল্পকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য বরাদ্দকৃত তহবিল থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এক একটি টেক্সটাইল মিলের বিনিয়োগ কয়েক শ থেকে হাজার কোটি টাকাও ছাড়িয়ে যায়।

বস্ত্র খাত বিশাল বিনিয়োগের হওয়ায় এ খাতের উদ্যোক্তাদের পক্ষে বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী, এসএমইর জন্য বরাদ্দকৃত তহবিল থেকে বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তাদের ঋণ নেওয়া কার্যত অসম্ভব। ঋণ পেলেও তার পরিমাণ হবে একেবারেই নগণ্য। আবার সুদের হারও অনেক বেশি

এ খাতের এক জন শীর্ষস্থানীয় উদ্যোক্তা ইত্তেফাককে বলেন, শক্তিশালী ব্যাকওয়ার্ড শিল্প গড়ে ওঠায় গার্মেন্টস খাত রপ্তানিতে এত সফলতা অর্জন করতে পেরেছে। সরকারের বিদ্যমান রপ্তানিনীতি অনুযায়ী বস্ত্র খাত মজুরি প্রদানের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার এ তহবিল থেকে ঋণ প্রাপ্য। এ সিদ্ধান্তের ফলে তারল্য সংকটে ধুঁকতে থাকা বস্ত্র খাত বড়ো ধরনের আর্থিক সংকটে পড়ে মজুরি পরিশোধে ব্যর্থ হবে। ফলে অনেক কারখানা লে-অফ (সাময়িক বন্ধ) কিংবা স্থায়ী বন্ধের দিকে যেতে হতে পারে। এতে হাজার হাজার শ্রমিক চাকরি হারানোর পাশাপাশি গার্মেন্টস খাতও কাঁচামালের জন্য পরনির্ভরশীল হয়ে পড়বে। এটি দেশের অর্থনীতির জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে।

ইস্যুটি নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ জানিয়ে সম্প্র্রতি অর্থমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছে বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিটিএমএ। এতে রপ্তানিনীতি আদেশের বিদ্যমান ব্যাখ্যা তুলে ধরে বলা হয়, নতুন সার্কুলারটি রপ্তানিনীতি আদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এর ফলে এ খাতের উদ্যোক্তাদের পক্ষে প্রণোদনার সুবিধা নেওয়ায় জটিলতা তৈরি হবে। আদেশটি তৈরি করার সময় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা না করায় হতাশা প্রকাশ করা হয়।

করোনা ভাইরাসের কারণে গার্মেন্টস পণ্যের রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়া, রপ্তানির অর্থ না আসাসহ বেশকিছু সমম্যা তুলে ধরে এ খাতের উদ্যোক্তাদের তারল্য সংকটের বিষয়টিও ধরা হয়।

বিটিএমের সাবেক চেয়ারম্যান এ মতিন চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহযোগিতা করতে চেয়েছেন। অথচ মন্ত্রণালয় উলটাপালটা করে ফেলেছে। এসএমইর ঋণ কোথায় কী হারে বণ্টন হবে তা ইতিমধ্যেই বলা আছে। বৃহত্ শিল্প হিসেবে সেখান থেকে তো বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তাদের ঋণ পাওয়ার সুযোগ নেই। আবার সেখানে সুদের হারও অনেক বেশি। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বস্ত্র খাত বিপদে পড়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।